আরিফিন শুভ আবারও প্রমাণ করলেন, একজন অভিনেতার প্রকৃত শক্তি শুধু অভিনয়ে নয়, চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই রূপে পর্দায় হাজির হয়ে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। ‘জ্যাজ সিটি’ এবং ‘মালিক’—দুই প্রজেক্টে তার অভিনয় ও লুক এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে মুক্তি পাওয়া ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজে দেখা গেছে সত্তরের দশকের এক প্রাণবন্ত তরুণ হিসেবে। রেট্রো আবহ, পুরোনো সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল এবং অভিনয়ের মাধ্যমে সেই চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন তিনি। দর্শকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গণমাধ্যমও তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছে। ফলে সিরিজটি মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন এই অভিনেতা।
এর কিছুদিন পরই ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পায় ‘মালিক’। এখানে একেবারেই নতুন এক আরিফিন শুভকে দেখতে পান দর্শকরা। লম্বা চুল, ঘন দাড়ি, রুক্ষ ব্যক্তিত্ব এবং অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকদের চমকে দেয়। সিনেমা হল থেকে বের হয়ে অনেক দর্শক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অভিনয় ও লুকের প্রশংসা করেছেন।
দুই প্রজেক্টের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। একদিকে স্বপ্নবাজ ও আবেগপ্রবণ তরুণ, অন্যদিকে কঠিন বাস্তবতায় গড়ে ওঠা শক্তিশালী ও রাফ চরিত্র। এই বৈপরীত্যই এখন দর্শকদের আলোচনার মূল বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, ‘জ্যাজ সিটি’ ও ‘মালিক’-এর চরিত্র দুটির মধ্যে এমন পার্থক্য রয়েছে যে মনে হয় যেন দুই ভিন্ন অভিনেতাকে দেখা যাচ্ছে।
‘মালিক’ সিনেমার পরিচালক সাইফ চন্দনের মতে, চরিত্রের জন্য আরিফিন শুভ অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। শুটিং শুরু হওয়ার প্রায় চার মাস আগে থেকেই তিনি নির্দিষ্ট লুক ধরে রাখার প্রস্তুতি নেন। দীর্ঘ সময় একই চুল ও দাড়ির স্টাইল বজায় রাখতে গিয়ে শারীরিক কষ্টও সহ্য করতে হয়েছে তাকে। এমনকি লুক ধরে রাখার কারণে তার মাথায় সমস্যাও দেখা দিয়েছিল বলে জানান পরিচালক।
বর্তমানে দর্শকদের মধ্যে নতুন কৌতূহল তৈরি হয়েছে আরিফিন শুভর আগামী কাজ নিয়ে। দেশীয় নাকি আন্তর্জাতিক কোনো নতুন প্রজেক্টে দেখা যাবে তাকে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সাম্প্রতিক দুটি কাজের মাধ্যমে তিনি যে নিজেকে আরও পরিণত ও বহুমাত্রিক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সে বিষয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে প্রায় কোনো দ্বিমত নেই।





























