ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডন কারাগারে, তদন্তে নতুন মোড়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। | ছবি: সংগৃহীত

সালমান শাহ হত্যা মামলা ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোচনায় এবার এসেছে নতুন মোড়। ৯ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খলনায়ক অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান আদালতে ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন এবং জামিনে মুক্তি পেলে ফের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

ডনের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে বিমানবন্দরেই। মামলাটির কারণে তার বিদেশযাত্রায় আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা ছিল। রোববার দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সিআইডিকে জানায়। এরপর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ডনকে মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করে। তবে আদালতে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হওয়া মানেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই আইনি বিষয়টি মাথায় রেখেই সালমান শাহ হত্যা মামলা নিয়ে পরবর্তী ঘটনাগুলো দেখা হচ্ছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর রাতে তার পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, অভিনেতার সঙ্গে কোনো একটি ঘটনা ঘটেছে। বাসায় গিয়ে তারা সালমান শাহর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান—এমন তথ্যও শুনানিতে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় এসব বিষয় তদন্তের অংশ হয়েছে। তাই পুরোনো ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এলেও তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের আগে কোনো পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের কথিত স্বীকারোক্তি নিয়ে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তিনি ডনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন। সেখানে সালমান শাহকে হত্যার জন্য অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়। একই সঙ্গে কীভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তবে এসব বক্তব্য বর্তমানে মামলার তদন্ত ও বিচারিক যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। ফলে এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত অভিযোগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বিষয়গুলোর আইনগত অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। প্রথম দিকে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হয়েছিল এবং আগের তদন্তে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও এসেছিল। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নতুনভাবে সামনে আসে। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। এর আগে আদালত ডন ও সামীরা হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল।

এখন সবার নজর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। সর্বশেষ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। জুলাইয়ে নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন জমা না পড়ায় নতুন তারিখ দেওয়া হয়। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পেছানোর ধারাবাহিকতার অংশ। ফলে ডনের কারাগারে যাওয়া মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এখানেই পুরো ঘটনার সমাধান হচ্ছে না। সামনে তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার গতিপথ নির্ধারিত হবে। সালমান শাহকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রহস্যের প্রকৃত সত্য কী, সেই উত্তর পেতে এখন তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডন কারাগারে, তদন্তে নতুন মোড়

Update Time : ১০:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলা ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোচনায় এবার এসেছে নতুন মোড়। ৯ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খলনায়ক অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান আদালতে ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন এবং জামিনে মুক্তি পেলে ফের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

ডনের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে বিমানবন্দরেই। মামলাটির কারণে তার বিদেশযাত্রায় আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা ছিল। রোববার দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সিআইডিকে জানায়। এরপর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ডনকে মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করে। তবে আদালতে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হওয়া মানেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই আইনি বিষয়টি মাথায় রেখেই সালমান শাহ হত্যা মামলা নিয়ে পরবর্তী ঘটনাগুলো দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  যাত্রাবাড়ী ও মুগদা এলাকায় ২৯ জন গ্রেপ্তার

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর রাতে তার পরিবারের সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, অভিনেতার সঙ্গে কোনো একটি ঘটনা ঘটেছে। বাসায় গিয়ে তারা সালমান শাহর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান—এমন তথ্যও শুনানিতে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় এসব বিষয় তদন্তের অংশ হয়েছে। তাই পুরোনো ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এলেও তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের আগে কোনো পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন  দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল, নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ৩

শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের কথিত স্বীকারোক্তি নিয়ে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তিনি ডনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন। সেখানে সালমান শাহকে হত্যার জন্য অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়। একই সঙ্গে কীভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তবে এসব বক্তব্য বর্তমানে মামলার তদন্ত ও বিচারিক যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। ফলে এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত অভিযোগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বিষয়গুলোর আইনগত অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। প্রথম দিকে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হয়েছিল এবং আগের তদন্তে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও এসেছিল। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নতুনভাবে সামনে আসে। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। এর আগে আদালত ডন ও সামীরা হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল।

আরও পড়ুন  লোহাগাড়ায় ৬৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, ৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

এখন সবার নজর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। সর্বশেষ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। জুলাইয়ে নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন জমা না পড়ায় নতুন তারিখ দেওয়া হয়। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পেছানোর ধারাবাহিকতার অংশ। ফলে ডনের কারাগারে যাওয়া মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এখানেই পুরো ঘটনার সমাধান হচ্ছে না। সামনে তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার গতিপথ নির্ধারিত হবে। সালমান শাহকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রহস্যের প্রকৃত সত্য কী, সেই উত্তর পেতে এখন তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।