ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে Logo গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের Logo শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই, ছয় দশকের সাহিত্যজীবনের অবসান Logo ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ Logo মেকআপ ছাড়াই সাদিয়া আয়মানের মধ্যরাতের ছবি, সাত মাস পর কেন পোস্ট Logo কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব খাবার Logo আবার হঠাৎ বৃষ্টি নিয়ে বড় চমক, ২৮ বছর পর ফিরছে জনপ্রিয় গল্প Logo বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী Logo ৭১১ কোটি রুপিতে পুরো আবাসিক টাওয়ার কিনলেন দীনেশ ঠক্কর Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা বাড়ানোর সুপারিশ

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে। তবে এবারের সফরটি শুধু জাতিসংঘের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিরোধ এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভের কারণে সফরটি নিয়ে বাড়তি আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মামদানি আগে বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে কাউকে গ্রেপ্তার করার সেই আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই। চলতি সপ্তাহেও মামদানি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। নেতানিয়াহু এসব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

নেতানিয়াহুও মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। চলতি সপ্তাহে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন এবং মামদানি সম্পর্কে ‘সত্য’ বলবেন। মামদানি হামাসকে সমর্থন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে কী থাকবে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামদানির সঙ্গে বিরোধের পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও জানিয়েছে, ইসরায়েল ও দেশটির সেনাদের অবস্থান তুলে ধরাই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর একই দিন ইসরায়েলে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তা ও বিক্ষোভের আশঙ্কার মধ্যে তাঁর উড়োজাহাজ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউজার্সির কোনো সামরিক ঘাঁটি অথবা নিউআর্ক বিমানবন্দরে নামতে পারে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও চলছে। ইসরায়েলি সরকারের বিরোধীরা এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী তাঁর সফরের সময় প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করতে পারে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কোনো নির্ধারিত সূচি নেই। রয়টার্স জানিয়েছে, এবারের সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা নেই। ফলে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই সফরের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে দেশে ও বিদেশে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক সফরে নেতানিয়াহুর সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্য, মামদানির সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক বিরোধ, সম্ভাব্য বিক্ষোভ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সবকিছুই এবারের সফরকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে

Update Time : ০৫:০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে। তবে এবারের সফরটি শুধু জাতিসংঘের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিরোধ এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভের কারণে সফরটি নিয়ে বাড়তি আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মামদানি আগে বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে কাউকে গ্রেপ্তার করার সেই আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই। চলতি সপ্তাহেও মামদানি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। নেতানিয়াহু এসব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

নেতানিয়াহুও মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। চলতি সপ্তাহে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন এবং মামদানি সম্পর্কে ‘সত্য’ বলবেন। মামদানি হামাসকে সমর্থন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প-মেলানিয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে কী থাকবে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামদানির সঙ্গে বিরোধের পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও জানিয়েছে, ইসরায়েল ও দেশটির সেনাদের অবস্থান তুলে ধরাই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর একই দিন ইসরায়েলে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তা ও বিক্ষোভের আশঙ্কার মধ্যে তাঁর উড়োজাহাজ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউজার্সির কোনো সামরিক ঘাঁটি অথবা নিউআর্ক বিমানবন্দরে নামতে পারে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।

আরও পড়ুন  অ্যান্ডি বার্নহামই হতে চলেছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী!

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও চলছে। ইসরায়েলি সরকারের বিরোধীরা এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী তাঁর সফরের সময় প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করতে পারে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কোনো নির্ধারিত সূচি নেই। রয়টার্স জানিয়েছে, এবারের সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা নেই। ফলে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

আরও পড়ুন  ইরান কি ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে? নতুন দাবি ইসরায়েলের

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই সফরের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে দেশে ও বিদেশে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক সফরে নেতানিয়াহুর সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্য, মামদানির সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক বিরোধ, সম্ভাব্য বিক্ষোভ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সবকিছুই এবারের সফরকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখছে।