কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি শুধু পানি কম পান করার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, শরীরে পানির পরিমাণ, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং কিডনিতে আগে পাথর হওয়ার ইতিহাসও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুষ্টিকর খাবার খেলেই কিডনিতে পাথর হবে। বরং কোন খাবার কতটা খাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করে পাথরের ধরন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথরের ক্ষেত্রে কিছু উচ্চ-অক্সালেট খাবার সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
পালংশাক, বিট, বাদাম, চিনাবাদাম, চকলেট ও কিছু শস্যজাতীয় খাবারে তুলনামূলক বেশি অক্সালেট থাকে। এসব খাবার স্বাভাবিকভাবেই পুষ্টিকর এবং তাই সবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যাদের আগে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর হয়েছে বা প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদ এসব খাবারের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দিতে পারেন। অর্থাৎ খাবারের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি ব্যক্তির কিডনি পাথরের ধরনটিও বিবেচনা করা জরুরি।
অনেকের ধারণা, কিডনিতে ক্যালসিয়াম পাথর হলে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম কমিয়ে দিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়। প্রয়োজনীয় পরিমাণ ক্যালসিয়াম খাবার থেকে গ্রহণ করা অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। খাবারের ক্যালসিয়াম অন্ত্রে অক্সালেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটির শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছায় দুধ, দই বা অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বাদ দেওয়া ঠিক নয়। কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ঠিক করা ভালো।
কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত তরল পান করা। পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং পাথর তৈরির কিছু উপাদান সহজে জমাট বাঁধতে পারে না। গরমে বেশি ঘাম হলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়, ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই গরম আবহাওয়া বা বেশি শারীরিক পরিশ্রমের সময় পানির দিকে আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন। তবে কিডনি বা অন্য কোনো রোগের কারণে চিকিৎসক যদি তরল কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিজের মতো করে বেশি পানি পান করা উচিত নয়।
খাবারে অতিরিক্ত লবণও কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করলে প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা বিশেষ করে ক্যালসিয়ামযুক্ত পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই অতিরিক্ত লবণ, প্যাকেটজাত খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত নোনতা স্ন্যাকস ও বেশি সোডিয়ামযুক্ত খাবার কমানো ভালো। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিনও কিছু ধরনের পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও পরিমিত প্রোটিনের ভারসাম্য রাখা জরুরি।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই খাদ্যতালিকা কাজ করে না। কারও ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর হতে পারে, আবার কারও ইউরিক অ্যাসিড বা অন্য ধরনের পাথর হতে পারে। তাই আগে পাথর হয়ে থাকলে চিকিৎসকের মাধ্যমে পাথরের ধরন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ইচ্ছায় পুষ্টিকর খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান, লবণ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা কিডনি-ডায়েট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা তৈরি করা যেতে পারে।




























