ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মেরুদণ্ডে এখনও ৫ আগস্টের গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে আছে: নবী হোসেন Logo ঘুম কম হলেই সকালে মাথাব্যথা? স্বস্তি মিলবে যেভাবে Logo ঘরে থাকা কয়েকটি উপকরণেই বানিয়ে ফেলুন পিনাট বাটার! Logo চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটিতে এমপি জসীম উদ্দীন মনোনীত সদস্য হলেন সাংবাদিক মো. নুরুল আলম Logo প্রজাপতি কি স্মৃতি ধরে রাখতে পারে? Logo রাকার বিশ্বরেকর্ডে গিনেস বুকে নাম আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির Logo আসল পদ্মার ইলিশ চিনবেন কীভাবে? Logo মেথি নাকি কাঁচা ডিম, চুলের যত্নে কোন হেয়ার মাস্ক বেছে নেবেন? Logo গরম চা-কফিতে ক্যানসারের ঝুঁকি? জানুন গবেষণার তথ্য Logo ইন্টারনেটের দাম কমবে? বেসরকারি সাবমেরিন কেব্‌লে বড় দাবি

মেথি নাকি কাঁচা ডিম, চুলের যত্নে কোন হেয়ার মাস্ক বেছে নেবেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৩২

চুলের যত্নে মেথির হেয়ার মাস্ক ও কাঁচা ডিমের হেয়ার মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত।

চুল জটমুক্ত, নরম ও ঝলমলে রাখতে অনেকেই ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করেন। মেথি ও কাঁচা ডিম—দুটি উপাদানই চুলের যত্নে বেশ পরিচিত। কিন্তু দুটির কাজ এক নয়। তাহলে মেথির হেয়ার মাস্ক নাকি কাঁচা ডিমের মাস্ক, কোনটি চুলকে তুলনামূলকভাবে বেশি মসৃণ ও সুন্দর দেখাতে পারে? বিষয়টি বুঝতে হলে দুই উপাদানের কার্যকারিতা আলাদাভাবে দেখা দরকার।

মেথির হেয়ার মাস্ক কীভাবে কাজ করে?

মেথির দানা পানিতে কয়েক ঘণ্টা বা সারারাত ভিজিয়ে রাখলে তা নরম হয়ে পিচ্ছিল ও জেলির মতো হয়ে যায়। এই মেথি বেটে চুলে ব্যবহার করা হয়। এর পিচ্ছিল উপাদান চুলের ওপর একটি মসৃণ স্তর তৈরি করতে পারে। ফলে চুল সাময়িকভাবে নরম, মসৃণ ও সহজে আঁচড়ানো যায় এমন মনে হতে পারে। চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল তুলনামূলক মসৃণ থাকলে আলোও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে চুলকে কিছুটা বেশি উজ্জ্বল ও ঝলমলে দেখাতে পারে।

কাঁচা ডিমের মাস্ক কি সত্যিই চুল মেরামত করে?

ডিমে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই চুলের পরিচর্যায় ডিম ব্যবহারের জনপ্রিয়তা অনেকদিনের। তবে ডিম খেয়ে শরীর যে পুষ্টি পায়, কাঁচা ডিম সরাসরি চুলে লাগালে একই উপকার পাওয়া যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের গঠন স্থায়ীভাবে মেরামত করে ফেলবে কাঁচা ডিমের মাস্ক, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও নেই। তাই ডিমের মাস্ককে চুলের ক্ষতি সারানোর চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তাহলে কোনটি বেশি কার্যকর?

চুলকে সাময়িকভাবে নরম, মসৃণ ও চকচকে দেখানোর ক্ষেত্রে মেথির হেয়ার মাস্ক তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী হতে পারে। ভেজানো মেথির জেলির মতো উপাদান চুলে কন্ডিশনারের মতো অনুভূতি দিতে পারে এবং জট ছাড়াতেও কিছুটা সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে কাঁচা ডিমের মাস্ক নিয়ে প্রচলিত অনেক দাবি থাকলেও চুলের গঠন মেরামত করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার শক্ত প্রমাণ সীমিত। তাই শুধু চুলের বাহ্যিক মসৃণতা ও কোমলতা চাইলে মেথিকে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

চাইলে মেথি ও ডিম একসঙ্গেও হেয়ার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে নতুন কোনো উপাদান চুল বা মাথার ত্বকে ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, বিশেষ করে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ত্বকের প্রবণতা থাকলে। চোখের আশপাশে এসব উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। আর চুল পড়া, খুশকি, মাথার ত্বকে প্রদাহ বা অতিরিক্ত চুল ভাঙার মতো সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া মাস্কের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

মেথির হেয়ার মাস্ক চুলকে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ দেখাতে পারে, কিন্তু এটি কোনো চুলের সমস্যার চিকিৎসা নয়। একইভাবে কাঁচা ডিমের মাস্ক নিয়েও অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। চুলের প্রকৃত স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উপযুক্ত কন্ডিশনার, অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক ব্যবহারে সতর্কতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক মসৃণতার জন্য মেথি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সামগ্রিক পরিচর্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেরুদণ্ডে এখনও ৫ আগস্টের গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে আছে: নবী হোসেন

মেথি নাকি কাঁচা ডিম, চুলের যত্নে কোন হেয়ার মাস্ক বেছে নেবেন?

Update Time : ০৯:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল জটমুক্ত, নরম ও ঝলমলে রাখতে অনেকেই ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করেন। মেথি ও কাঁচা ডিম—দুটি উপাদানই চুলের যত্নে বেশ পরিচিত। কিন্তু দুটির কাজ এক নয়। তাহলে মেথির হেয়ার মাস্ক নাকি কাঁচা ডিমের মাস্ক, কোনটি চুলকে তুলনামূলকভাবে বেশি মসৃণ ও সুন্দর দেখাতে পারে? বিষয়টি বুঝতে হলে দুই উপাদানের কার্যকারিতা আলাদাভাবে দেখা দরকার।

মেথির হেয়ার মাস্ক কীভাবে কাজ করে?

মেথির দানা পানিতে কয়েক ঘণ্টা বা সারারাত ভিজিয়ে রাখলে তা নরম হয়ে পিচ্ছিল ও জেলির মতো হয়ে যায়। এই মেথি বেটে চুলে ব্যবহার করা হয়। এর পিচ্ছিল উপাদান চুলের ওপর একটি মসৃণ স্তর তৈরি করতে পারে। ফলে চুল সাময়িকভাবে নরম, মসৃণ ও সহজে আঁচড়ানো যায় এমন মনে হতে পারে। চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল তুলনামূলক মসৃণ থাকলে আলোও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে চুলকে কিছুটা বেশি উজ্জ্বল ও ঝলমলে দেখাতে পারে।

আরও পড়ুন  তরুণীরা কেন বয়সে বড় পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন

কাঁচা ডিমের মাস্ক কি সত্যিই চুল মেরামত করে?

ডিমে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই চুলের পরিচর্যায় ডিম ব্যবহারের জনপ্রিয়তা অনেকদিনের। তবে ডিম খেয়ে শরীর যে পুষ্টি পায়, কাঁচা ডিম সরাসরি চুলে লাগালে একই উপকার পাওয়া যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের গঠন স্থায়ীভাবে মেরামত করে ফেলবে কাঁচা ডিমের মাস্ক, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও নেই। তাই ডিমের মাস্ককে চুলের ক্ষতি সারানোর চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তাহলে কোনটি বেশি কার্যকর?

আরও পড়ুন  ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করার সহজ নিয়ম মাসে একবার করলেই যথেষ্ট

চুলকে সাময়িকভাবে নরম, মসৃণ ও চকচকে দেখানোর ক্ষেত্রে মেথির হেয়ার মাস্ক তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী হতে পারে। ভেজানো মেথির জেলির মতো উপাদান চুলে কন্ডিশনারের মতো অনুভূতি দিতে পারে এবং জট ছাড়াতেও কিছুটা সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে কাঁচা ডিমের মাস্ক নিয়ে প্রচলিত অনেক দাবি থাকলেও চুলের গঠন মেরামত করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার শক্ত প্রমাণ সীমিত। তাই শুধু চুলের বাহ্যিক মসৃণতা ও কোমলতা চাইলে মেথিকে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

চাইলে মেথি ও ডিম একসঙ্গেও হেয়ার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে নতুন কোনো উপাদান চুল বা মাথার ত্বকে ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, বিশেষ করে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ত্বকের প্রবণতা থাকলে। চোখের আশপাশে এসব উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। আর চুল পড়া, খুশকি, মাথার ত্বকে প্রদাহ বা অতিরিক্ত চুল ভাঙার মতো সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া মাস্কের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

আরও পড়ুন  প্রতিদিন হলুদ খেলে কী হয়? জানুন বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

মেথির হেয়ার মাস্ক চুলকে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ দেখাতে পারে, কিন্তু এটি কোনো চুলের সমস্যার চিকিৎসা নয়। একইভাবে কাঁচা ডিমের মাস্ক নিয়েও অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। চুলের প্রকৃত স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উপযুক্ত কন্ডিশনার, অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক ব্যবহারে সতর্কতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক মসৃণতার জন্য মেথি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সামগ্রিক পরিচর্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।