সিঙ্গেল দিবস শুধু সম্পর্কহীন থাকার বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার একটি দিন নয়, বরং নিজের জীবন, পছন্দ ও স্বাধীনতাকে নতুন করে দেখার একটি উপলক্ষ। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দেশে সিঙ্গেল দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। সঙ্গী নেই বা এখনো বিয়ে করেননি—এমন মানুষদের জন্য দিনটি নিজের মতো করে সময় কাটানো এবং নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেয়। সম্পর্ক না থাকাকে অপূর্ণতা হিসেবে দেখার বদলে নিজের জীবনকে নিজের মতো সাজানোর বিষয়টিই এ দিনের অন্যতম ভাবনা।
সিঙ্গেল জীবন মানেই যে একাকিত্ব বা বিষণ্নতা, এমন ধারণা সবসময় সত্য নয়। বরং অনেকের কাছে এই সময়টি হতে পারে নিজের ক্যারিয়ার, পড়াশোনা, শখ কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা, নতুন কিছু শেখা, বই পড়া, ঘুরতে যাওয়া কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো—সবই হতে পারে নিজের যত্নের অংশ। তাই সিঙ্গেল দিবস অনেকের কাছে নিজের জীবনকে নতুন করে উপভোগ করার একটি উপলক্ষ।
নিজের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করাও এই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অন্য কারও পছন্দ বা প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পরিবর্তে নিজের প্রয়োজন ও ইচ্ছাগুলো বোঝার সুযোগ পাওয়া যায়। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করা, পুরোনো কোনো শখ আবার শুরু করা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে করতে চাওয়া কোনো কাজের দিকে মন দেওয়া—এসব ছোট সিদ্ধান্তও জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে পারে। ফলে সঙ্গী না থাকার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মন খারাপ না করে নিজের অর্জন ও সম্ভাবনার দিকে তাকানো যেতে পারে।
তবে সিঙ্গেল দিবসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক তথ্য প্রচলিত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্রে বলা হয়, চীনে সিঙ্গেলদের উদযাপনের ধারণাটি ১৯৯০-এর দশকে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ১১ নভেম্বরকে অবিবাহিত বা সঙ্গীহীন মানুষের জন্য বিশেষ দিন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। তারিখটিতে চারটি ‘১’ থাকায় একক ব্যক্তির প্রতীক হিসেবে দিনটিকে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। পরে এই আয়োজন চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চীনের ১১ নভেম্বরের আয়োজন বড় বাণিজ্যিক উৎসবেও পরিণত হয়েছে। এই দিনটি সেখানে ব্যাপক অনলাইন ও অফলাইন কেনাকাটার সঙ্গে যুক্ত। তবে ২৩ সেপ্টেম্বরকে সিঙ্গেল দিবস হিসেবে পালনের প্রচলনও রয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, দিবসটির এই তারিখ নির্ধারণের পেছনে আলাদা উদ্যোগ ও ইতিহাস রয়েছে। অর্থাৎ একই নামে দিবসটি পালিত হলেও দেশভেদে এর তারিখ ও উদযাপনের ধরন এক নয়।



























