ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে Logo গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের Logo শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই, ছয় দশকের সাহিত্যজীবনের অবসান Logo ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ Logo মেকআপ ছাড়াই সাদিয়া আয়মানের মধ্যরাতের ছবি, সাত মাস পর কেন পোস্ট Logo কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব খাবার Logo আবার হঠাৎ বৃষ্টি নিয়ে বড় চমক, ২৮ বছর পর ফিরছে জনপ্রিয় গল্প Logo বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী Logo ৭১১ কোটি রুপিতে পুরো আবাসিক টাওয়ার কিনলেন দীনেশ ঠক্কর Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা বাড়ানোর সুপারিশ

গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:০৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০১

যুদ্ধের ক্ষত বয়ে চলেছে গাজা, চলছে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন শুরু করতে প্রায় ২৪৫ কোটি ডলারের ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস বা শান্তি পর্ষদ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে পর্ষদের বৈঠকে ৬৬টি প্রকল্পের এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

পরিকল্পনাটিতে গাজার জরুরি অবকাঠামো, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো গাজা পুনর্গঠনের ব্যয় এই প্রাথমিক বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি। পর্ষদের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যম মেয়াদে গাজার ভৌত অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৩ হাজার ৫২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। আগামী এক দশকে পূর্ণ পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে আরও ৭ হাজার ১৪০ কোটি ডলার।

প্রাথমিক ছয় মাসের পরিকল্পনায় অস্থায়ী আবাসন তৈরি, ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র সরানো, হাসপাতাল সংস্কার, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালুর মতো বিষয় রাখা হয়েছে। অবকাঠামো খাতেই প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বরাদ্দের কথা পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনায় গাজার সীমান্তপথ মেরামত এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কথাও রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অগ্রাধিকার পাওয়া পুনর্গঠন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় এলাকায় থাকা ভূগর্ভস্থ টানেল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থাও পরিকল্পনার অংশ।

তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়েছে। শান্তি পর্ষদের গাজার বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোর অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমার চেয়ে বাস্তবায়ন কার্যকর হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে গাজায় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশের দিনও ইসরায়েলি হামলার খবর এসেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের কাছে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। দেইর আল-বালাহ ও গাজা নগরীতেও পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে খান ইউনিসের হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

ফলে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনার সামনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাটিতে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এখনো খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাফাহ থেকে কাজ শুরু করে পরে খান ইউনিস, মধ্যাঞ্চল, গাজা নগরী এবং উত্তর গাজার দিকে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর জন্য হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোর অগ্রগতি দরকার।

সব মিলিয়ে ২৪৫ কোটি ডলারের এই উদ্যোগ গাজার পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু গাজার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় এই অর্থের পরিমাণ অনেক কম। তাই পরিকল্পনাটি বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তা, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে

গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের

Update Time : ০৫:০৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন শুরু করতে প্রায় ২৪৫ কোটি ডলারের ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস বা শান্তি পর্ষদ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে পর্ষদের বৈঠকে ৬৬টি প্রকল্পের এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

পরিকল্পনাটিতে গাজার জরুরি অবকাঠামো, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো গাজা পুনর্গঠনের ব্যয় এই প্রাথমিক বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি। পর্ষদের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যম মেয়াদে গাজার ভৌত অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৩ হাজার ৫২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। আগামী এক দশকে পূর্ণ পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে আরও ৭ হাজার ১৪০ কোটি ডলার।

প্রাথমিক ছয় মাসের পরিকল্পনায় অস্থায়ী আবাসন তৈরি, ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র সরানো, হাসপাতাল সংস্কার, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালুর মতো বিষয় রাখা হয়েছে। অবকাঠামো খাতেই প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বরাদ্দের কথা পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ওবামার বিরুদ্ধে ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের

পরিকল্পনায় গাজার সীমান্তপথ মেরামত এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কথাও রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অগ্রাধিকার পাওয়া পুনর্গঠন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় এলাকায় থাকা ভূগর্ভস্থ টানেল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থাও পরিকল্পনার অংশ।

তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়েছে। শান্তি পর্ষদের গাজার বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোর অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমার চেয়ে বাস্তবায়ন কার্যকর হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  ৩০ মৃত্যুর ঘটনায় কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র

অন্যদিকে গাজায় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশের দিনও ইসরায়েলি হামলার খবর এসেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের কাছে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। দেইর আল-বালাহ ও গাজা নগরীতেও পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে খান ইউনিসের হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

ফলে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনার সামনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাটিতে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এখনো খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৫১০ কোটি ডলার

পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাফাহ থেকে কাজ শুরু করে পরে খান ইউনিস, মধ্যাঞ্চল, গাজা নগরী এবং উত্তর গাজার দিকে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর জন্য হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোর অগ্রগতি দরকার।

সব মিলিয়ে ২৪৫ কোটি ডলারের এই উদ্যোগ গাজার পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু গাজার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় এই অর্থের পরিমাণ অনেক কম। তাই পরিকল্পনাটি বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তা, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর।