ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টোনার কি ত্বকের জন্য সত্যিই দরকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৭

সঠিক টোনার ত্বককে রাখতে পারে হাইড্রেটেড ও সতেজ | ছবি: সংগৃহীত

একসময় টোনার মানেই ছিল অ্যালকোহলযুক্ত এমন একটি তরল, যা মুখের অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকও টানটান ও শুষ্ক করে ফেলত। তাই অনেকেই মনে করেন, স্কিনকেয়ার রুটিনে টোনার যোগ করা মানেই অপ্রয়োজনীয় একটি ধাপ। তবে সময়ের সঙ্গে টোনারের ফর্মুলায় এসেছে বড় পরিবর্তন। আধুনিক টোনার এখন শুধু ত্বক পরিষ্কার করার জন্য নয়, বরং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখা ও নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সামলানোর লক্ষ্যেও তৈরি হচ্ছে।

ত্বক পরিষ্কারে বাড়তি সহায়তা

ফেসওয়াশ ব্যবহারের পরও ত্বকে মেকআপ, অতিরিক্ত তেল, ঘাম বা ধুলাবালির কিছু অংশ থেকে যেতে পারে। সঠিক টোনার সেই অবশিষ্ট ময়লা পরিষ্কারে অতিরিক্ত সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে রাতে মেকআপ বা সানস্ক্রিন ব্যবহারের পর ডাবল ক্লিনজিংয়ের অংশ হিসেবে এটি কাজে আসতে পারে।

তবে টোনারকে ক্লিনজারের বিকল্প ভাবার কারণ নেই। মুখ পরিষ্কারের পর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী টোনার ব্যবহার করাই ভালো।

ত্বককে রাখতে পারে নরম ও হাইড্রেটেড

পুরোনো ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে শুষ্কতা বাড়াতে পারত। আধুনিক হাইড্রেটিং ফর্মুলায় বরং গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন আর্দ্রতা ধরে রাখার উপাদান থাকে।

এসব উপাদান ত্বকের ওপর আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্লিনজিংয়ের পর ত্বকে অতিরিক্ত টানটান বা শুষ্ক অনুভূতি কম হতে পারে।

ত্বকের ধরন বুঝে বেছে নেওয়া জরুরি

সব ধরনের ত্বকের জন্য একই টোনার উপযুক্ত নয়। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও বন্ধ হয়ে যাওয়া পোরসের সমস্যা থাকলে নিয়াসিনামাইড বা মৃদু স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ফর্মুলা বিবেচনা করা যেতে পারে।

ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে খুব শক্তিশালী বা অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া তৈরি হলে ত্বকের অবস্থা আরও খারাপ লাগতে পারে।

অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন বা ভিটামিন ই-এর মতো ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত টোনার বেশি উপযোগী হতে পারে। সেনসিটিভ ত্বকে উপাদানের তালিকা আরও সতর্কভাবে দেখা প্রয়োজন।

স্কিনকেয়ারের পরের ধাপেও সাহায্য করতে পারে

টোনার ব্যবহারের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ত্বকে হালকা আর্দ্রতা যোগ করা। পরিষ্কার করার পর ত্বক খুব শুষ্ক থাকলে পরবর্তী কিছু স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারে অস্বস্তি হতে পারে। হাইড্রেটিং টোনার ত্বককে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।

এরপর সিরাম, ময়েশ্চারাইজার এবং সকালে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যায়। তবে টোনার ব্যবহার করলেই পরের সব ধাপ বাদ দেওয়া যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

সকাল না রাতে কখন ব্যবহার করবেন

ত্বকের সহনশীলতার ওপর নির্ভর করে দিনে একবার বা দুইবার টোনার ব্যবহার করা যায়। সকালে ব্যবহার করলে রাতে জমে থাকা ঘাম ও ত্বকের অন্যান্য অবশিষ্ট পদার্থ পরিষ্কারে সহায়তা করতে পারে। রাতে ক্লিনজিংয়ের পর ব্যবহার করলে স্কিনকেয়ার রুটিনের অংশ হিসেবে এটি যোগ করা যায়।

তবে ব্যবহারের পর যদি ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, লাল বা জ্বালাপোড়া করে, তাহলে ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া উচিত। সমস্যা অব্যাহত থাকলে প্রোডাক্টটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করার পর টোনার ব্যবহার করা সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। তুলায় নিয়ে আলতোভাবে মুখে লাগানো যায়। আবার কয়েক ফোঁটা হাতের তালুতে নিয়ে হাত দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ত্বকে বসিয়েও ব্যবহার করা সম্ভব।

চোখের চারপাশের মতো সংবেদনশীল অংশ এড়িয়ে চলা ভালো। প্রয়োজন হলে ঘাড়েও ব্যবহার করা যায়। এরপর ময়েশ্চারাইজার এবং দিনের রুটিন হলে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

টোনার কেনার আগে যা দেখবেন

টোনার কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড বা প্যাকেজিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। নিজের ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী উপাদান বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে নিয়াসিনামাইড বা মৃদু এক্সফোলিয়েটিং উপাদান কাজে আসতে পারে। শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও গ্লিসারিনের মতো হিউমেকট্যান্ট উপকারী হতে পারে। বয়সের ছাপ বা সূর্যের ক্ষতির বিষয়ে যত্ন নিতে চাইলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফর্মুলা বিবেচনা করা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অ্যালকোহল, অতিরিক্ত সুগন্ধি বা ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এড়িয়ে চলা, বিশেষ করে ত্বক সংবেদনশীল হলে।

তাহলে টোনার কি সবার জন্য জরুরি

না, টোনার স্কিনকেয়ার রুটিনের বাধ্যতামূলক ধাপ নয়। ভালো ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন দিয়েও একটি কার্যকর রুটিন তৈরি করা সম্ভব। তবে ত্বকের নির্দিষ্ট প্রয়োজন থাকলে সঠিক ফর্মুলার টোনার অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

তাই টোনারকে অপ্রয়োজনীয় বা ত্বক শুকিয়ে দেয় এমন প্রোডাক্ট হিসেবে এক কথায় বাদ দেওয়ার আগে এর ফর্মুলা ও নিজের ত্বকের ধরন বিবেচনা করুন। বিশেষ করে ব্রণ, রোসেশিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা থাকলে নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

টোনার কি ত্বকের জন্য সত্যিই দরকার

Update Time : ১১:০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

একসময় টোনার মানেই ছিল অ্যালকোহলযুক্ত এমন একটি তরল, যা মুখের অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকও টানটান ও শুষ্ক করে ফেলত। তাই অনেকেই মনে করেন, স্কিনকেয়ার রুটিনে টোনার যোগ করা মানেই অপ্রয়োজনীয় একটি ধাপ। তবে সময়ের সঙ্গে টোনারের ফর্মুলায় এসেছে বড় পরিবর্তন। আধুনিক টোনার এখন শুধু ত্বক পরিষ্কার করার জন্য নয়, বরং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখা ও নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সামলানোর লক্ষ্যেও তৈরি হচ্ছে।

ত্বক পরিষ্কারে বাড়তি সহায়তা

ফেসওয়াশ ব্যবহারের পরও ত্বকে মেকআপ, অতিরিক্ত তেল, ঘাম বা ধুলাবালির কিছু অংশ থেকে যেতে পারে। সঠিক টোনার সেই অবশিষ্ট ময়লা পরিষ্কারে অতিরিক্ত সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে রাতে মেকআপ বা সানস্ক্রিন ব্যবহারের পর ডাবল ক্লিনজিংয়ের অংশ হিসেবে এটি কাজে আসতে পারে।

তবে টোনারকে ক্লিনজারের বিকল্প ভাবার কারণ নেই। মুখ পরিষ্কারের পর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী টোনার ব্যবহার করাই ভালো।

ত্বককে রাখতে পারে নরম ও হাইড্রেটেড

পুরোনো ধরনের অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে শুষ্কতা বাড়াতে পারত। আধুনিক হাইড্রেটিং ফর্মুলায় বরং গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন আর্দ্রতা ধরে রাখার উপাদান থাকে।

আরও পড়ুন  বর্ষায় ছত্রাক সংক্রমণ এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

এসব উপাদান ত্বকের ওপর আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্লিনজিংয়ের পর ত্বকে অতিরিক্ত টানটান বা শুষ্ক অনুভূতি কম হতে পারে।

ত্বকের ধরন বুঝে বেছে নেওয়া জরুরি

সব ধরনের ত্বকের জন্য একই টোনার উপযুক্ত নয়। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও বন্ধ হয়ে যাওয়া পোরসের সমস্যা থাকলে নিয়াসিনামাইড বা মৃদু স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ফর্মুলা বিবেচনা করা যেতে পারে।

ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে খুব শক্তিশালী বা অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া তৈরি হলে ত্বকের অবস্থা আরও খারাপ লাগতে পারে।

অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন বা ভিটামিন ই-এর মতো ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত টোনার বেশি উপযোগী হতে পারে। সেনসিটিভ ত্বকে উপাদানের তালিকা আরও সতর্কভাবে দেখা প্রয়োজন।

স্কিনকেয়ারের পরের ধাপেও সাহায্য করতে পারে

টোনার ব্যবহারের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ত্বকে হালকা আর্দ্রতা যোগ করা। পরিষ্কার করার পর ত্বক খুব শুষ্ক থাকলে পরবর্তী কিছু স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারে অস্বস্তি হতে পারে। হাইড্রেটিং টোনার ত্বককে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।

এরপর সিরাম, ময়েশ্চারাইজার এবং সকালে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যায়। তবে টোনার ব্যবহার করলেই পরের সব ধাপ বাদ দেওয়া যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  ঘরোয়া উপায়ে দাগহীন ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার উপায়

সকাল না রাতে কখন ব্যবহার করবেন

ত্বকের সহনশীলতার ওপর নির্ভর করে দিনে একবার বা দুইবার টোনার ব্যবহার করা যায়। সকালে ব্যবহার করলে রাতে জমে থাকা ঘাম ও ত্বকের অন্যান্য অবশিষ্ট পদার্থ পরিষ্কারে সহায়তা করতে পারে। রাতে ক্লিনজিংয়ের পর ব্যবহার করলে স্কিনকেয়ার রুটিনের অংশ হিসেবে এটি যোগ করা যায়।

তবে ব্যবহারের পর যদি ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, লাল বা জ্বালাপোড়া করে, তাহলে ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া উচিত। সমস্যা অব্যাহত থাকলে প্রোডাক্টটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করার পর টোনার ব্যবহার করা সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। তুলায় নিয়ে আলতোভাবে মুখে লাগানো যায়। আবার কয়েক ফোঁটা হাতের তালুতে নিয়ে হাত দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ত্বকে বসিয়েও ব্যবহার করা সম্ভব।

চোখের চারপাশের মতো সংবেদনশীল অংশ এড়িয়ে চলা ভালো। প্রয়োজন হলে ঘাড়েও ব্যবহার করা যায়। এরপর ময়েশ্চারাইজার এবং দিনের রুটিন হলে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

টোনার কেনার আগে যা দেখবেন

টোনার কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড বা প্যাকেজিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। নিজের ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী উপাদান বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  মেকআপ আইটেমের মেয়াদ কতদিন?

তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে নিয়াসিনামাইড বা মৃদু এক্সফোলিয়েটিং উপাদান কাজে আসতে পারে। শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও গ্লিসারিনের মতো হিউমেকট্যান্ট উপকারী হতে পারে। বয়সের ছাপ বা সূর্যের ক্ষতির বিষয়ে যত্ন নিতে চাইলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফর্মুলা বিবেচনা করা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অ্যালকোহল, অতিরিক্ত সুগন্ধি বা ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এড়িয়ে চলা, বিশেষ করে ত্বক সংবেদনশীল হলে।

তাহলে টোনার কি সবার জন্য জরুরি

না, টোনার স্কিনকেয়ার রুটিনের বাধ্যতামূলক ধাপ নয়। ভালো ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন দিয়েও একটি কার্যকর রুটিন তৈরি করা সম্ভব। তবে ত্বকের নির্দিষ্ট প্রয়োজন থাকলে সঠিক ফর্মুলার টোনার অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

তাই টোনারকে অপ্রয়োজনীয় বা ত্বক শুকিয়ে দেয় এমন প্রোডাক্ট হিসেবে এক কথায় বাদ দেওয়ার আগে এর ফর্মুলা ও নিজের ত্বকের ধরন বিবেচনা করুন। বিশেষ করে ব্রণ, রোসেশিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা থাকলে নতুন কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।