ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান প্রকৌশলী পদ ঘিরে ইইডিতে তৎপরতা, আলোচনায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদ ঘিরে কর্মকর্তাদের তৎপরতা। (ছবি: সংগৃহীত)

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলীর পদ ঘিরে কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে তৎপরতা। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা থাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদটি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।

ইইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেতে কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। আলোচনায় থাকা কর্মকর্তাদের একজন মো. জাহেদুল করীম। তিনি বর্তমানে রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে রয়েছেন।

জাহেদুল করীমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। ইইডির শাখা কমিটিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হয়। তাদের মধ্যে জাহেদুল করীমও ছিলেন। তবে ইইডিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদসংখ্যা ও পদায়ন নিয়ে তখন প্রশ্ন ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে ঠিকাদারি কাজ, বিল পরিশোধ ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে সাঈদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়া ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন জাহেদুল করীম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ছিলেন—এটি সত্য হলেও টেন্ডার বা অন্য কোনো কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়। সাঈদ এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করে তিনি জানান, কাজ অন্যরা দিয়েছে এবং তিনি কেবল নিয়ম অনুযায়ী বিল ছাড় করেছেন।

প্রধান প্রকৌশলীর পদে যাওয়ার জন্য তদবিরের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন জাহেদুল। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে এ পদে দেওয়া হবে না এবং তার ওপরে আরও ১১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে কোনো ধরনের অস্থিরতা সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা দায়িত্ব বাদ দিয়ে তদবিরে ব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের নতুন করে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধান প্রকৌশলী পদ ঘিরে ইইডিতে তৎপরতা, আলোচনায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা

Update Time : ১১:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলীর পদ ঘিরে কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে তৎপরতা। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা থাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদটি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।

ইইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেতে কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। আলোচনায় থাকা কর্মকর্তাদের একজন মো. জাহেদুল করীম। তিনি বর্তমানে রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে রয়েছেন।

জাহেদুল করীমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। ইইডির শাখা কমিটিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন  শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ: নির্বাচনে অংশ নিতে চাকরি ছাড়তে হবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হয়। তাদের মধ্যে জাহেদুল করীমও ছিলেন। তবে ইইডিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদসংখ্যা ও পদায়ন নিয়ে তখন প্রশ্ন ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে ঠিকাদারি কাজ, বিল পরিশোধ ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে সাঈদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়া ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  ট্রল বিতর্ক: শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা, দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হবেন না

অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন জাহেদুল করীম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ছিলেন—এটি সত্য হলেও টেন্ডার বা অন্য কোনো কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়। সাঈদ এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করে তিনি জানান, কাজ অন্যরা দিয়েছে এবং তিনি কেবল নিয়ম অনুযায়ী বিল ছাড় করেছেন।

প্রধান প্রকৌশলীর পদে যাওয়ার জন্য তদবিরের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন জাহেদুল। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে এ পদে দেওয়া হবে না এবং তার ওপরে আরও ১১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন।

আরও পড়ুন  চড়া সবজি-মুরগি-ডিমের বাজারে অস্বস্তি ঢাকায়

এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে কোনো ধরনের অস্থিরতা সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা দায়িত্ব বাদ দিয়ে তদবিরে ব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের নতুন করে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।