ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই ক্যামেরায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৩১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করবে নতুন ব্যবস্থা। | ছবি: সংগৃহীত

মহাসড়কে এআই ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি বাড়ানোর ফলে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, মহাসড়কে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হলে ক্যামেরার মাধ্যমে তা রেকর্ড করা সম্ভব হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মতান্ত্রিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, উল্টো পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সাইন-সিগন্যাল না মানার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক ধরনের ট্রাফিক অপরাধ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করা হবে। জরিমানার তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হবে এবং গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার খবর জানানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের সুযোগও থাকবে। একই গাড়ির বিরুদ্ধে তিনবার জরিমানা হলে নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, তা বিআরটিএর প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হওয়া এই অটো ফাইন সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ব্যবস্থাটিতে কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে তা সংশোধনের পর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও প্রযুক্তিটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, থ্রি-হুইলারগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হবে। তবে মহাসড়কে নন-মোটরাইজড যানবাহন কিংবা থ্রি-হুইলার কোনো অবস্থাতেই চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালিক, শ্রমিক ও পুলিশের সম্মিলিত সহযোগিতায় মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ সফল করার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই ক্যামেরায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৪:৩১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

মহাসড়কে এআই ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি বাড়ানোর ফলে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, মহাসড়কে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হলে ক্যামেরার মাধ্যমে তা রেকর্ড করা সম্ভব হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মতান্ত্রিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-ভারত নিবিড় যোগাযোগে সম্মত - জয়শঙ্কর-খলিলুর বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, উল্টো পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সাইন-সিগন্যাল না মানার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক ধরনের ট্রাফিক অপরাধ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করা হবে। জরিমানার তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হবে এবং গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার খবর জানানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের সুযোগও থাকবে। একই গাড়ির বিরুদ্ধে তিনবার জরিমানা হলে নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, তা বিআরটিএর প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন  জনকল্যাণে ব্যয় বাড়ানোর অঙ্গীকার, অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রাথমিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হওয়া এই অটো ফাইন সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ব্যবস্থাটিতে কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে তা সংশোধনের পর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও প্রযুক্তিটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন  দেশে ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে আগামীকাল সন্ধ্যায়

মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, থ্রি-হুইলারগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হবে। তবে মহাসড়কে নন-মোটরাইজড যানবাহন কিংবা থ্রি-হুইলার কোনো অবস্থাতেই চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালিক, শ্রমিক ও পুলিশের সম্মিলিত সহযোগিতায় মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ সফল করার আহ্বান জানান।