দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা কবে উদ্যাপিত হবে, সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যায়। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে কি না এবং কবে পালিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সোমবার বাদ মাগরিব রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শুরু হওয়া এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই নির্ধারিত হয় ঈদুল আজহার দিন। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা দেয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
প্রতি বছর আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদ্যাপন করা হয়। এদিন বিশ্বের মুসলমানরা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেন এবং ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদুল আজহার গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁর এই ত্যাগের মানসিকতা কবুল করে পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন।
সেই ঘটনার স্মরণেই মুসলমানরা প্রতি বছর পশু কোরবানি করেন। কোরবানির মাধ্যমে মানুষ আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা লাভ করে। একই সঙ্গে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণের মাধ্যমে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের চর্চা হয়।
বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণত কয়েকদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী ও খামারিরাও কোরবানির পশু নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে কোরবানির প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন।
আবহাওয়া পরিস্থিতিও চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা বাড়ে। এজন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ উদ্যাপন করা হয়। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে কখনো কখনো একই দিনেও ঈদ পালনের নজির রয়েছে। ফলে আগামীকালের বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে সবার নজর রয়েছে।
ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ঈদুল আজহা শুধু কোরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ সময় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে চাঁদ দেখা গেলে পরদিন থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী নির্ধারিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ। আর চাঁদ দেখা না গেলে জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে পরবর্তী দিন থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে।
দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখন চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামীকাল সন্ধ্যার পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে দেশে কবে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।





















