দোকান-বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাটের ব্যবসা কার্যক্রম সচল রাখতে মঙ্গলবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে আগে যেখানে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হতো, এখন রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শপিং মল, বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না।
সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে কেনাকাটার সবচেয়ে বড় সময় হচ্ছে রাতের সময়। অফিস শেষ করে সাধারণ মানুষ মূলত সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করতে বের হন। তাই দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর ফলে ব্যবসা বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর আগে গত ৪ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল দোকান মালিক সমিতি। তারা ঈদুল আজহার আগ পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছিল। যদিও সরকার আপাতত রাত ১০টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা সারা বছরের বড় অংশের বিক্রি করে থাকেন। তাই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরেই দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রভাব পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানো হয় এবং দোকানপাট আগেভাগে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অনুরোধে সেই সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়।এদিকে ঈদ সামনে রেখে মার্কেট ও শপিং মলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শহরে জমে উঠছে ঈদের কেনাকাটা। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সময় বাড়ানোর ফলে বিক্রি আরও বাড়বে।
ক্রেতারাও বলছেন, অফিস শেষে কেনাকাটার জন্য রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের জন্য এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এতে ঈদের কেনাকাটায় বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে।বিশ্লেষকদের মতে, সরকার একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে, অন্যদিকে ঈদকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার চেষ্টাও করছে। তাই সীমিত শর্তে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আবারও চাপের মুখে পড়তে পারে। এজন্য ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।





















