পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) আসনের তিন উপজেলায় তিন হাজারের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেলে ঘিওর এবং সন্ধ্যায় শিবালয় উপজেলায় সাধারণ মানুষের হাতে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় তিনি তিন উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, নদীভাঙন ও পরিবেশ দূষণ রোধে প্রতিটি মানুষকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন,
“আগামী দিনে মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলে তারেক রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়ন করা হবে।”
এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী—
- কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে।
- প্রতিটি পরিবারের মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
- পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
- পরিবেশ সুরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হচ্ছে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মানিকগঞ্জ-১ আসনে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে।
জিন্নাহ কবির বলেন, নতুন নির্মিত সড়কের দুই পাশ, নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ পাবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে মানিকগঞ্জ-১ আসনকে দেশের মধ্যে সর্বাধিক গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণের অন্যতম মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
চারা বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, ফলজ গাছ অর্থনৈতিকভাবেও পরিবারের উপকারে আসে। এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত হলে এলাকার সবুজায়ন আরও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন—
- মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম মুকুল
- জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু
- বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সবুজায়নই বাড়ায় না, মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিন উপজেলায় একযোগে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
এ সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং লাগানো গাছের পরিচর্যা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু চারা বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; গাছগুলোকে বড় করে তোলার জন্য সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, জাম, নিম, কৃষ্ণচূড়া, রেইনট্রি, মেহগনি, অর্জুনসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের দাবি, স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির ধরন বিবেচনায় এসব চারা নির্বাচন করা হয়েছে।
ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়ের কয়েকটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন পরিবার থেকে শুরু করতে হবে এবং শিক্ষার্থীরাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি একদিনের কর্মসূচি নয়। আগামী কয়েক মাস ধরে ইউনিয়নভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলবে। বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা, চরাঞ্চল, খাসজমি, রাস্তার দুই পাশ এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খালি জায়গায় বেশি করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
চারা নিতে আসা অনেকেই বলেন, বর্তমানে অতিরিক্ত গরম ও পরিবেশ দূষণের কারণে গাছ লাগানো সময়ের দাবি। এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি ভবিষ্যতে ফলজ গাছ থেকে সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পরিণত গাছ বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ মাটিক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতেও সহায়ক।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের তিন উপজেলায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে তিন হাজারের বেশি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার পরিবেশবিষয়ক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাদের লক্ষ্য, পর্যায়ক্রমে পুরো আসনজুড়ে ব্যাপক সবুজায়ন নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।




























