ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ত্বক ও চুলের যত্নে ডিম, কীভাবে ব্যবহার করবেন Logo তিলের বীজ খেলে কী হয়? জানুন বিজ্ঞান যা বলছে Logo বিশ্বকাপের নায়ক কুকুরেয়া, মাঠের বাইরের লড়াই আরও কঠিন Logo প্রথমবার প্রাকৃতিক আবাসে দেখা মিলল আর্কটিক ববটেইল স্কুইডের Logo বিশ্বকাপের সেরা ১০ তারকা প্রকাশ, শীর্ষে মেসি Logo বিশ্বকাপ ফাইনাল ফের হবে? যা বললেন পোরো Logo পুরুষদের তুলনায় নারীদের গরম বেশি লাগে কেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা Logo চন্দনাইশের জাঁহাগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের শাহসুফি সৈয়্যদ মুহাম্মদ মমতাজ আলী ১৭তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত Logo বর্ষায় কোন সবজিগুলো খেলে বাড়তে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি? Logo জেনিফার লোপেজ সম্পর্ক: ৪ বিচ্ছেদের পর সাহসী উপলব্ধি

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬: যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে পরিবেশ, ভঙ্গ হচ্ছে জলবায়ু অঙ্গীকার

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০৯:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৫৪৯

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ আজ। | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আবারও সামনে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক। পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করা হলেও যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক দূষণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

জলবায়ু আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ না করে প্রকৃত জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কারণ একটি যুদ্ধ পরিচালনা থেকে শুরু করে অস্ত্র উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। একই সঙ্গে সামরিক শিল্পে ব্যবহৃত হয় বিপুল পরিমাণ পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশ্বের শীর্ষ ৬০ সামরিক ব্যয়কারী দেশের অধিকাংশই তাদের সামরিক খাতের কার্বন নির্গমন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যায়। বর্তমানে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রায় ৩২ শতাংশের জন্য দায়ী চীন, আর যুক্তরাষ্ট্রের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে জনপ্রতি কার্বন নির্গমনের দিক থেকে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

২০২৩ সালের দুবাই জলবায়ু সম্মেলনেও যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের সম্পর্ক নিয়ে জোরালো আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজা, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্যও বড় হুমকি।

আজ ৫ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বা জলবায়ু তৎপরতা। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, অনেক দেশ এখনো সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে তুলনামূলকভাবে কম ভূমিকা রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে দেশের লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলোর অনেকেই এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শুধু জলবায়ু নিয়ে বক্তৃতা নয়, বাস্তব পদক্ষেপই পরিবেশ রক্ষার একমাত্র পথ। যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয় কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্বক ও চুলের যত্নে ডিম, কীভাবে ব্যবহার করবেন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬: যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে পরিবেশ, ভঙ্গ হচ্ছে জলবায়ু অঙ্গীকার

Update Time : ০৯:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আবারও সামনে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক। পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করা হলেও যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক দূষণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

জলবায়ু আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ না করে প্রকৃত জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কারণ একটি যুদ্ধ পরিচালনা থেকে শুরু করে অস্ত্র উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। একই সঙ্গে সামরিক শিল্পে ব্যবহৃত হয় বিপুল পরিমাণ পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন  তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে ঘোষণা, পানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

বিশ্বের শীর্ষ ৬০ সামরিক ব্যয়কারী দেশের অধিকাংশই তাদের সামরিক খাতের কার্বন নির্গমন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যায়। বর্তমানে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রায় ৩২ শতাংশের জন্য দায়ী চীন, আর যুক্তরাষ্ট্রের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে জনপ্রতি কার্বন নির্গমনের দিক থেকে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

২০২৩ সালের দুবাই জলবায়ু সম্মেলনেও যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের সম্পর্ক নিয়ে জোরালো আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজা, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্যও বড় হুমকি।

আরও পড়ুন  বগুড়ায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল তিন আরোহীর

আজ ৫ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বা জলবায়ু তৎপরতা। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, অনেক দেশ এখনো সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে তুলনামূলকভাবে কম ভূমিকা রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে দেশের লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলোর অনেকেই এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পিছিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম, সতর্ক করলেন অর্থনীতিবিদরা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শুধু জলবায়ু নিয়ে বক্তৃতা নয়, বাস্তব পদক্ষেপই পরিবেশ রক্ষার একমাত্র পথ। যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয় কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।