ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দ্বিতীয়, কার অবস্থান কোথায়? Logo প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান শিগগিরই Logo নতুন আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্বে সরকার Logo টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাবে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে ১শ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি Logo বুড়িচংয়ে ভাড়াবাসা থেকে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার,পলাতক স্ত্রী Logo বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম, সতর্ক করলেন অর্থনীতিবিদরা Logo আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী? Logo জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা: অর্থমন্ত্রী Logo ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৫০ Logo বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমবেদনা

বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম, সতর্ক করলেন অর্থনীতিবিদরা

বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম

চলতি বছর ইরান যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ‘সুপার’ এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও দামে নতুন করে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ুগত এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রভাব ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে চাল, গম, চিনি, কফি, পাম অয়েলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NOAA) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো চক্রটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও খরার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এবারের এল নিনো সাধারণ চক্রের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে। এ কারণেই একে ‘সুপার এল নিনো’ বা ‘গডজিলা এল নিনো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া সৃষ্টি করে কৃষি উৎপাদনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদনে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতের বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধান, গম ও আখ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ২৫ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে। আবার মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষি উৎপাদনকারী দেশটির খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও এই প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে প্রতিফলিত হবে, তবে এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।

ইতালির অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্রেডিটও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সুপার এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন প্রায় ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অর্থমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান ক্ষতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাজারে। ফলে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, কফি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইউনিক্রেডিটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর চাল, পাম অয়েল, কফি ও চিনির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কৃষিপণ্যের দাম ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতিকে এখন ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকে।

এল নিনোর অতীত ইতিহাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইতিহাসে একাধিকবার শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মারাত্মক খরা, বন্যা এবং কৃষি বিপর্যয় দেখা গেছে। এসব দুর্যোগের ফলে বহু দেশে খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, উনিশ শতকের শেষদিকে শক্তিশালী এল নিনোর কারণে চীন, ভারত, ব্রাজিল, মিশর এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। সে সময় কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খাদ্য সংকটের কারণে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশসহ খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে অভ্যন্তরীণ বাজারেও।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাদ্য মজুত বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণেরও বিকল্প নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দ্বিতীয়, কার অবস্থান কোথায়?

বিশ্বে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে খাদ্যের দাম, সতর্ক করলেন অর্থনীতিবিদরা

Update Time : ০৬:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

চলতি বছর ইরান যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ‘সুপার’ এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও দামে নতুন করে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ুগত এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রভাব ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে চাল, গম, চিনি, কফি, পাম অয়েলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NOAA) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো চক্রটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও খরার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এবারের এল নিনো সাধারণ চক্রের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে। এ কারণেই একে ‘সুপার এল নিনো’ বা ‘গডজিলা এল নিনো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া সৃষ্টি করে কৃষি উৎপাদনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ফের সক্রিয়, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদনে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতের বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধান, গম ও আখ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ২৫ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে। আবার মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষি উৎপাদনকারী দেশটির খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও এই প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে প্রতিফলিত হবে, তবে এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব ২০২৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।

ইতালির অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্রেডিটও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সুপার এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন প্রায় ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অর্থমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান ক্ষতি।

আরও পড়ুন  বিশ্বব্যাংকের আয়ের তালিকা: সুখবর, ৫ দেশ উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাজারে। ফলে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, কফি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইউনিক্রেডিটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর চাল, পাম অয়েল, কফি ও চিনির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কৃষিপণ্যের দাম ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতিকে এখন ‘ক্লাইমেটফ্লেশন’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকে।

এল নিনোর অতীত ইতিহাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইতিহাসে একাধিকবার শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মারাত্মক খরা, বন্যা এবং কৃষি বিপর্যয় দেখা গেছে। এসব দুর্যোগের ফলে বহু দেশে খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য, চিকিৎসার বাইরে হাজারো রোগী

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, উনিশ শতকের শেষদিকে শক্তিশালী এল নিনোর কারণে চীন, ভারত, ব্রাজিল, মিশর এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। সে সময় কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খাদ্য সংকটের কারণে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশসহ খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে অভ্যন্তরীণ বাজারেও।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাদ্য মজুত বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণেরও বিকল্প নেই।