ফিল্ডস মেডেল জিতে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন চীনের দুই গণিতবিদ ইউ ডেং ও হং ওয়াং। গণিতে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার প্রথমবারের মতো চীনের দুই গবেষকের হাতে ওঠায় দেশটিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত থাকা দুটি জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করেই তারা এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত সম্মেলনে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ইউ ডেং ও হং ওয়াংয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন পার্ডন এবং কানাডার জ্যাকব সিমারম্যানও একই সম্মান লাভ করেন। প্রতিজন পান ১৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার। গণিতে অসাধারণ অবদানের জন্য চার বছর পরপর ৪০ বছরের কম বয়সী গবেষকদের এই সম্মান দেওয়া হয়। ফিল্ডস মেডেল তাই গণিতের নোবেল পুরস্কার হিসেবেই পরিচিত।
হং ওয়াং তার সহকর্মী জশ জাহলের সঙ্গে ১৯১৭ সালে জাপানি গণিতবিদ সোইচি কাকেয়ার উত্থাপিত বিখ্যাত ‘কাকেয়া সমস্যা’র সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অন্যদিকে ইউ ডেং সমাধান করেন ডেভিড হিলবার্টের বিখ্যাত ষষ্ঠ সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে অণুর গতিবিধি থেকে বৃহৎ সিস্টেমের আচরণ ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হয়। এই দুই গবেষণাই আধুনিক গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই গবেষকের শিক্ষাজীবনের গল্পও অনুপ্রেরণাদায়ক। দুজনই পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করে পরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। হং ওয়াং বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ও ফ্রান্সের আইএইচইএস-এ অধ্যাপনা করছেন। অন্যদিকে ইউ ডেং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর গণিত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই অর্জন চীনের গণিত গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিল্ডস মেডেল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। লাখো মানুষ এই অর্জনকে দেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন। বিশিষ্ট গণিতবিদ শিং-তুং ইয়াউও বলেছেন, চীনের গণিত অঙ্গনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব হয়েছে। বিশেষ করে হং ওয়াং মাত্র তৃতীয় নারী হিসেবে এই সম্মান অর্জন করায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউ ডেং ও হং ওয়াংয়ের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বিশ্ব গণিত গবেষণায় নতুন সম্ভাবনারও প্রতীক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানব মেধার অসাধারণ শক্তির উদাহরণ হিসেবে ফিল্ডস মেডেল জয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষকদের জন্যও বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


























