পাবনায় কৃষকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এক কৃষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জামিল হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে ধান মাড়াইয়ের মৌসুমি কাজ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এসেছিলেন। প্রায় ২০ দিন ধরে তিনি সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন কৃষি কাজে অংশ নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে ধান মাড়াইয়ের কাজকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, কাজের জন্য তাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে জামিল হোসেনকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এরপর তাকে জোর করে ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলের কাজ শেষে জামিল হোসেন বাড়িতে ফিরে অস্বস্তি অনুভব করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে আসার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। স্বজনরা মনে করছেন, বিকেলের ঘটনার সঙ্গে তার মৃত্যুর সম্পর্ক থাকতে পারে।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও গুরুতর আঘাতের স্পষ্ট আলামত মেলেনি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
পাবনায় কৃষকের মৃত্যু ঘিরে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি অভিযোগ অনুযায়ী মারধরের ঘটনার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।




























