ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ভারত সফর: জয়সোয়ালের নতুন বার্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

দিল্লিতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন রণধীর জয়সোয়াল। ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে নাকি পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি যাবেন, সফরের সময়সূচি কী হতে পারে এবং এই সফরের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক শর্ত যুক্ত আছে কি না—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কূটনৈতিক মহলে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়েও বিষয়টি সামনে আসে। সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল অবশ্য নতুন কোনো তথ্য দেননি। তাঁর বক্তব্যে আগের অবস্থানই আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

জয়সোয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সরকার আগেই দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর বাইরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই ধরনের আমন্ত্রণই ভারতের পক্ষ থেকে রয়েছে। তবে কোন আমন্ত্রণে কখন সাড়া দেওয়া হবে বা তারেক রহমান ঠিক কবে দিল্লি যাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি ভারত। জয়সোয়াল বলেছেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে। ফলে সম্ভাব্য সফরের তারিখ নিয়ে আপাতত জল্পনাই ভরসা।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আগ্রহের পেছনে দুই দেশের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও বড় কারণ। চলতি মাসের শুরুতে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনলাইনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার এর প্রতিবাদ জানায়। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আরও কার্যকর করার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।

এরপর থেকেই তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়। শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের ধরনও ছিল বেশ সরাসরি। কেউ জানতে চান, ব্রিকসের আগে তারেক রহমান দিল্লি যাবেন কি না; কেউ জানতে চান, সফরটি ব্রিকসের আগে নাকি পরে হতে পারে। এমনকি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি সফরের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কি না, সে প্রশ্নও করা হয়। তবে প্রতিটি প্রশ্নের ক্ষেত্রেই জয়সোয়ালের উত্তর ছিল প্রায় একই—দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ আগে থেকেই আছে এবং ব্রিকসের আউটরিচে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো নতুন তথ্য তিনি দেননি।

এই অবস্থায় তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়সূচি ও সফরের ধরন। সফরটি শুধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ব্রিকসের আউটরিচ পর্বকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ হবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিমসটেক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম; ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন খাতের নেতৃত্ব বাংলাদেশের হাতে রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য সফর হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে—এমন খবরের বিষয়ে জয়সোয়াল বলেন, বিদ্যমান বোঝাপড়ার আওতায় ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে। অতিরিক্ত ডিজেল দেওয়ার অনুরোধ ভারত বিবেচনা করবে নিজেদের প্রয়োজন, শোধনাগারের সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় রেখে। ফলে একদিকে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, অন্যদিকে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টিও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বাস্তব একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে সফরের সময়সূচি ও দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও বিবৃতি অনুসরণ করতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বিমসটেক-সংক্রান্ত তথ্যও ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের ভারত সফর: জয়সোয়ালের নতুন বার্তা

Update Time : ১১:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে নাকি পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি যাবেন, সফরের সময়সূচি কী হতে পারে এবং এই সফরের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক শর্ত যুক্ত আছে কি না—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কূটনৈতিক মহলে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়েও বিষয়টি সামনে আসে। সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল অবশ্য নতুন কোনো তথ্য দেননি। তাঁর বক্তব্যে আগের অবস্থানই আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

জয়সোয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সরকার আগেই দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর বাইরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই ধরনের আমন্ত্রণই ভারতের পক্ষ থেকে রয়েছে। তবে কোন আমন্ত্রণে কখন সাড়া দেওয়া হবে বা তারেক রহমান ঠিক কবে দিল্লি যাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি ভারত। জয়সোয়াল বলেছেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে। ফলে সম্ভাব্য সফরের তারিখ নিয়ে আপাতত জল্পনাই ভরসা।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ: ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আগ্রহের পেছনে দুই দেশের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনও বড় কারণ। চলতি মাসের শুরুতে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনলাইনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার এর প্রতিবাদ জানায়। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আরও কার্যকর করার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়।

এরপর থেকেই তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়। শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের ধরনও ছিল বেশ সরাসরি। কেউ জানতে চান, ব্রিকসের আগে তারেক রহমান দিল্লি যাবেন কি না; কেউ জানতে চান, সফরটি ব্রিকসের আগে নাকি পরে হতে পারে। এমনকি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি সফরের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কি না, সে প্রশ্নও করা হয়। তবে প্রতিটি প্রশ্নের ক্ষেত্রেই জয়সোয়ালের উত্তর ছিল প্রায় একই—দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ আগে থেকেই আছে এবং ব্রিকসের আউটরিচে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো নতুন তথ্য তিনি দেননি।

আরও পড়ুন  সীমাবদ্ধতাকে জয় করে রিজুর ডিজিটাল বিপ্লব

এই অবস্থায় তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়সূচি ও সফরের ধরন। সফরটি শুধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ব্রিকসের আউটরিচ পর্বকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ হবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিমসটেক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম; ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন খাতের নেতৃত্ব বাংলাদেশের হাতে রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য সফর হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

আরও পড়ুন  স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে নিয়ে চমকপ্রদ সব তথ্য

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে—এমন খবরের বিষয়ে জয়সোয়াল বলেন, বিদ্যমান বোঝাপড়ার আওতায় ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে। অতিরিক্ত ডিজেল দেওয়ার অনুরোধ ভারত বিবেচনা করবে নিজেদের প্রয়োজন, শোধনাগারের সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় রেখে। ফলে একদিকে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, অন্যদিকে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টিও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বাস্তব একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে সফরের সময়সূচি ও দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও বিবৃতি অনুসরণ করতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বিমসটেক-সংক্রান্ত তথ্যও ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।