ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কি ধূমপানের চেয়েও ক্ষতিকর?

দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করলে বাড়তে পারে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ক্ষতিকর কি না, এই প্রশ্ন এখন বিজ্ঞানীদের মধ্যেও আলোচিত।দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এখন আধুনিক জীবনযাপনের একটি সাধারণ অভ্যাস। আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতিতে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে চেয়ারে বসে সকালে ল্যাপটপ খোলা থেকে শুরু করে টানা ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করা এখন অনেকের নিয়মিত রুটিন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য সিটিং ইজ দ্য নিউ স্মোকিং অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার প্রভাব ধূমপানকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ অলসভাবে বসে থাকার কুফলকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় সিটিং ডিজিজ। চেয়ারে বসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পায়ের বড় পেশির সচলতা কমে যায়, ক্যালোরি খরচের হার নেমে আসে এবং ফ্যাট ভাঙার উৎসেচক প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়, ফলে দ্রুত মেদ জমে।

দীর্ঘ সময় বসে থাকলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে রক্তনালিতে চর্বি জমার সুযোগ তৈরি হয়। দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি বসে থাকা মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ। এছাড়া অবিরাম বসে থাকলে কোষের ইনস্যুলিন সংবেদনশীলতা কমে যায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মেরুদণ্ড, ঘাড় ও কোমরের ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে সাইয়াটিকা, ডিস্ক প্রোল্যাপ্স ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাক পেইনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বসে থাকাকে ধূমপানের সঙ্গে তুলনা করার মূল কারণ এর নীরব ও সার্বজনীন প্রভাব। ধূমপান সবাই করে না, কিন্তু বিশ্বের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। ফলে স্থূলতা, হৃদরোগ ও অকালমৃত্যুর পেছনে বসে থাকা এখন এক বড় নীরব মহামারি। চমকপ্রদ তথ্য হলো, দিনে ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করলেও বাকি ৮-৯ ঘণ্টা টানা বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব পুরোপুরি দূর হয় না।

তবে কিছু সহজ অভ্যাসে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রতি আধ ঘণ্টা পরপর চেয়ার ছেড়ে উঠে ২ মিনিট হাঁটা বা স্ট্রেচিং করা, কাজের ফাঁকে হেঁটে ফোনে কথা বলা এবং মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে কাজ করার অভ্যাস উপকারী। পর্যাপ্ত পানি পান করলেও ঘন ঘন উঠে হাঁটার সুযোগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কি ধূমপানের চেয়েও ক্ষতিকর?

Update Time : ১১:১৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ক্ষতিকর কি না, এই প্রশ্ন এখন বিজ্ঞানীদের মধ্যেও আলোচিত।দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এখন আধুনিক জীবনযাপনের একটি সাধারণ অভ্যাস। আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতিতে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে চেয়ারে বসে সকালে ল্যাপটপ খোলা থেকে শুরু করে টানা ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করা এখন অনেকের নিয়মিত রুটিন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য সিটিং ইজ দ্য নিউ স্মোকিং অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার প্রভাব ধূমপানকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ অলসভাবে বসে থাকার কুফলকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় সিটিং ডিজিজ। চেয়ারে বসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পায়ের বড় পেশির সচলতা কমে যায়, ক্যালোরি খরচের হার নেমে আসে এবং ফ্যাট ভাঙার উৎসেচক প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়, ফলে দ্রুত মেদ জমে।

আরও পড়ুন  চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খেলে বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় বসে থাকলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে রক্তনালিতে চর্বি জমার সুযোগ তৈরি হয়। দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি বসে থাকা মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ। এছাড়া অবিরাম বসে থাকলে কোষের ইনস্যুলিন সংবেদনশীলতা কমে যায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মেরুদণ্ড, ঘাড় ও কোমরের ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে সাইয়াটিকা, ডিস্ক প্রোল্যাপ্স ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাক পেইনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন  ঘুম না এলে রাতে করুন এই ৭ ব্যায়াম, মিলবে স্বস্তির ঘুম

বসে থাকাকে ধূমপানের সঙ্গে তুলনা করার মূল কারণ এর নীরব ও সার্বজনীন প্রভাব। ধূমপান সবাই করে না, কিন্তু বিশ্বের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। ফলে স্থূলতা, হৃদরোগ ও অকালমৃত্যুর পেছনে বসে থাকা এখন এক বড় নীরব মহামারি। চমকপ্রদ তথ্য হলো, দিনে ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করলেও বাকি ৮-৯ ঘণ্টা টানা বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব পুরোপুরি দূর হয় না।

আরও পড়ুন  মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

তবে কিছু সহজ অভ্যাসে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রতি আধ ঘণ্টা পরপর চেয়ার ছেড়ে উঠে ২ মিনিট হাঁটা বা স্ট্রেচিং করা, কাজের ফাঁকে হেঁটে ফোনে কথা বলা এবং মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে কাজ করার অভ্যাস উপকারী। পর্যাপ্ত পানি পান করলেও ঘন ঘন উঠে হাঁটার সুযোগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।