ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সিজিএস এর কর্মশালায় শীর্ষ নেতাদের Logo ব্রাজিল বনাম নরওয়ে ম্যাচের আগে ইনজুরির আঘাতে বিপর্যস্ত সেলেসাও স্কোয়াড Logo অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বহাল রেখে বাংলাদেশের পাট রপ্তানিতে ভারতের নতুন চরম আঘাত Logo এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমার পরও বেশি টাকায় বিক্রির বিস্ফোরক গোপন রহস্য Logo ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি Logo ইসলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের চূড়ান্ত আইনি বিধান এবং ৫টি অজানা তথ্য Logo বিয়ের ৮ বছর পর মা হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী Logo মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত Logo রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের জরুরি যৌথ কমান্ডো অভিযান Logo চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ড ৬ ইউনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

মানসিক চাপ হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

মানসিক চাপকে অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। যদিও শুধুমাত্র মানসিক চাপই হৃদরোগের একমাত্র কারণ নয়, তবে এটি উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শরীরের বিভিন্ন জৈবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকে এখন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানসিক চাপ কীভাবে হৃদযন্ত্রকে প্রভাবিত করে

মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নামের দুটি হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এগুলো শরীরকে তাৎক্ষণিক বিপদের জন্য প্রস্তুত করে। এর ফলে—

  • হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।
  • রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
  • শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়।
  • রক্তে শর্করার মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে।

স্বল্প সময়ের জন্য এসব পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়তে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

শুধুমাত্র মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র মানসিক চাপ খুব কম ক্ষেত্রেই হৃদরোগের একমাত্র কারণ হয়। সাধারণত একাধিক ঝুঁকির কারণ একসঙ্গে কাজ করে হৃদরোগের সৃষ্টি করে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ
  • ডায়াবেটিস
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • স্থূলতা
  • ধূমপান
  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
  • দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’ কী?

গবেষণায় দেখা গেছে, বিরল কিছু ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক আঘাতের কারণে ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম নামে পরিচিত একটি অস্থায়ী হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

এটি সাধারণত ঘটে—

  • প্রিয়জনের মৃত্যু
  • বড় ধরনের দুর্ঘটনা
  • গভীর মানসিক আঘাত
  • তীব্র দুশ্চিন্তা বা শোকের পর

এই অবস্থায় হৃৎপেশী সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে দ্রুত চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

মানসিক চাপ কীভাবে পরোক্ষভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

মানসিক চাপ অনেক মানুষকে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দেয়। যেমন—

  • অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া
  • ধূমপান
  • অতিরিক্ত মদ্যপান
  • কম ঘুমানো
  • ব্যায়াম না করা
  • অতিরিক্ত খাওয়া

এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলোই শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে মানসিক চাপ কমানোর উপায়

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দেন—

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
  • যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
  • প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।
  • পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।
  • প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

যদি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের পাশাপাশি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

  • বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা
  • শ্বাসকষ্ট
  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা

মানসিক চাপ একাই সাধারণত হৃদরোগ সৃষ্টি করে না, তবে এটি হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দেয়। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সিজিএস এর কর্মশালায় শীর্ষ নেতাদের

মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত

Update Time : ০৭:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

মানসিক চাপকে অনেকেই দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। যদিও শুধুমাত্র মানসিক চাপই হৃদরোগের একমাত্র কারণ নয়, তবে এটি উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শরীরের বিভিন্ন জৈবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকে এখন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানসিক চাপ কীভাবে হৃদযন্ত্রকে প্রভাবিত করে

মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নামের দুটি হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এগুলো শরীরকে তাৎক্ষণিক বিপদের জন্য প্রস্তুত করে। এর ফলে—

  • হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।
  • রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
  • শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়।
  • রক্তে শর্করার মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে।

স্বল্প সময়ের জন্য এসব পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়তে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

আরও পড়ুন  নিয়মিত ব্লাড প্রেশারের ওষুধ খাচ্ছেন? কিডনির ঝুঁকি নিয়ে যা বলছে গবেষণা

শুধুমাত্র মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র মানসিক চাপ খুব কম ক্ষেত্রেই হৃদরোগের একমাত্র কারণ হয়। সাধারণত একাধিক ঝুঁকির কারণ একসঙ্গে কাজ করে হৃদরোগের সৃষ্টি করে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ
  • ডায়াবেটিস
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • স্থূলতা
  • ধূমপান
  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
  • দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।

‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’ কী?

গবেষণায় দেখা গেছে, বিরল কিছু ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক আঘাতের কারণে ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম নামে পরিচিত একটি অস্থায়ী হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

এটি সাধারণত ঘটে—

  • প্রিয়জনের মৃত্যু
  • বড় ধরনের দুর্ঘটনা
  • গভীর মানসিক আঘাত
  • তীব্র দুশ্চিন্তা বা শোকের পর
আরও পড়ুন  ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকলে শরীরে কী ঘটে? জানুন উপকার-ঝুঁকি

এই অবস্থায় হৃৎপেশী সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে দ্রুত চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

মানসিক চাপ কীভাবে পরোক্ষভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

মানসিক চাপ অনেক মানুষকে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দেয়। যেমন—

  • অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া
  • ধূমপান
  • অতিরিক্ত মদ্যপান
  • কম ঘুমানো
  • ব্যায়াম না করা
  • অতিরিক্ত খাওয়া

এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলোই শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে মানসিক চাপ কমানোর উপায়

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দেন—

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
  • যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
  • প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।
  • পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।
  • প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন  তেলাপিয়া মাছ কি ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

যদি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের পাশাপাশি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

  • বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা
  • শ্বাসকষ্ট
  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা

মানসিক চাপ একাই সাধারণত হৃদরোগ সৃষ্টি করে না, তবে এটি হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দেয়। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।