শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ রাজধানীতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর থেকে ঢাকা শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুপুর আড়াইটার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করেন। একই সময়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুরের পর থেকেই সেখানে শিক্ষার্থীদের সমাগম বাড়তে থাকে এবং পরে তারা সড়ক অবরোধ করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগের দিন দেশের বিভিন্ন জেলায় একই দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন। পরে রাতের দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত না করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্যে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করছেন।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। যদিও শিক্ষামন্ত্রী সংসদে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, কেবল দুঃখ প্রকাশ নয়, তাদের দাবিগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন নজর সবার।























