ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দেশের সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন স্বনামধন্য আইনজীবী ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ সময় আইন পেশায় যুক্ত থেকে তিনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলায় অংশ নেন। আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবিধানের যথাযথ প্রয়োগের পক্ষে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। নবীন আইনজীবীদের কাছেও তিনি একজন আদর্শ ও অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে তিনি পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরেন এবং কূটনৈতিক পরিসরে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। বিরোধী ও সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি নিয়ম মেনে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকার কথা আজও আলোচিত হয়।
২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড সংবিধান অনুযায়ী পরিচালনা করেন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক ছিলেন। দীর্ঘ সময় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন, সাংবিধানিক সংকট, জাতীয় রাজনীতি এবং আইনগত বিষয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন অভিভাবকতুল্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সহকর্মীদের মতে, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন মানুষ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন। আইন ও রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল।
তার মৃত্যুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেন। আইনজীবী মহল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেন, দেশের আইন ও রাজনীতির অঙ্গনে এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান স্মরণ করেন।
কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য মাইলফলক:
- ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতিতে যাত্রা।
- ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
- জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য।
- বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর স্থায়ী কমিটির সদস্য।
- ১৯৭৭–১৯৮১ সালে পাঁচবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি।
- একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত।
- ২০০১–২০০২ সালে জাতীয় সংসদের স্পিকার।
- ২০০২ সালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের একাধিকবার সভাপতি।
- দেশের অন্যতম প্রবীণ ও খ্যাতিমান ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এমন একজন রাজনীতিবিদ, যিনি আইন, সংসদ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। প্রায় আট দশকের কর্মময় জীবনে তিনি আইনজীবী, সংসদ সদস্য, স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের আইন ও রাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি সরকারের আমলে তিনি আইন, সংসদীয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিতেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বিশ্বাস করতেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবিধানের মর্যাদা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। আদালতে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও জটিল আইনগত বিষয়ে তার যুক্তি আইনজীবী মহলে প্রশংসিত হতো।
বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি সংলাপ ও সাংবিধানিক সমাধানের পক্ষে মত দেন। সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করতেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী বৈঠকগুলোতে তার মতামত বিশেষ গুরুত্ব পেত।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য তরুণ আইনজীবীর পরামর্শদাতা ছিলেন। আদালতে তার উপস্থাপনা, যুক্তি এবং আইনের ব্যাখ্যা নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের জন্য শিক্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হতো। অনেকেই তাকে একজন আদর্শ আইনজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দেশের সংবিধান বিষয়ে তার গভীর জ্ঞানের কারণে রাজনৈতিক দল, আইনজীবী এবং গণমাধ্যমের কাছে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষক ছিলেন। সাংবিধানিক সংশোধনী, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি নিয়মিত মতামত দিতেন।
যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করার ফলে আন্তর্জাতিক আইন এবং কমন ল–ব্যবস্থা সম্পর্কে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। দেশে ফিরে তিনি সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনচর্চায় কাজে লাগান।
তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তিনি ব্যক্তিগত শিষ্টাচার বজায় রাখতেন। প্রতিপক্ষের প্রতিও সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন।
জাতীয় সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল, আইন এবং জাতীয় ইস্যুতে তার বক্তব্য ছিল তথ্যনির্ভর ও যুক্তিপূর্ণ। সংসদীয় রীতি মেনে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য তিনি সংসদ সদস্যদের কাছেও সম্মানিত ছিলেন।
তিনি দেশের বিভিন্ন আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দিনাজপুর, ঢাকা, পঞ্চগড় ও বগুড়া—ভিন্ন ভিন্ন এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি বিরল এক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নজির স্থাপন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। আইনজীবী, বিচারপতি, রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসনের অনেকেই তাকে একজন সৎ ও নীতিবান ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
তার পরিবারও আইন ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং আইন পেশার সঙ্গেও যুক্ত। পরিবারে শিক্ষা, নৈতিকতা ও জনসেবার পরিবেশ ছিল বলেও ঘনিষ্ঠরা উল্লেখ করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে বর্তমানে খুব কম সংখ্যক নেতাই জীবিত ছিলেন। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বিএনপি তার অন্যতম অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারককে হারালো। একই সঙ্গে দেশের আইন ও সংসদীয় রাজনীতিও হারালো একজন অভিজ্ঞ সাংবিধানিক ব্যক্তিত্বকে।
সময়রেখা:
- ১৯৩১ – পঞ্চগড়ে জন্ম
- ১৯৪৫ – ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতিতে যাত্রা
- ১৯৬১ – লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন
- ১৯৭৭–১৯৮১ – পাঁচবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি
- ১৯৭৯ – প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত
- ১৯৯১ – ঢাকা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য
- ১৯৯৬ – পঞ্চগড়-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য
- ২০০১ – পুনরায় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার
- ২০০২ – ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন
- ২০০৯ – বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত
- ২০২৬ – ৯৫ বছর বয়সে মৃত্যু
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ করা হবে একজন দক্ষ আইনজ্ঞ, সংসদীয় গণতন্ত্রের সমর্থক, অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে। প্রায় ছয় দশকের জনজীবনে তিনি রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—আইন, আইনসভা ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার কর্মজীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ভারতের শেষ সময়ের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গণতন্ত্র, অধিকার এবং জনস্বার্থের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে আরও সমৃদ্ধ করে। পরে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্বের অংশ হয়ে ওঠেন।
বিএনপির সূচনালগ্ন থেকেই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। আইন, সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দক্ষতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিয়ার আস্থা অর্জন করেন। দলের সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ও তিনি দলের অন্যতম অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় রাজনীতি, নির্বাচন, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে দলের অবস্থান নির্ধারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করতেন, শক্তিশালী সংসদ ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। সংসদ সদস্য ও স্পিকার হিসেবে তিনি সংসদীয় রীতিনীতি, প্রশ্নোত্তর পর্ব, আইন প্রণয়ন এবং বিরোধী দলের মতামতের গুরুত্বের ওপর জোর দিতেন।
বাংলাদেশে খুব কম রাজনীতিবিদই আইন এবং রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন তাদের অন্যতম। আদালতের অভিজ্ঞতা তাকে রাজনীতিতে আরও পরিণত করে এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আইন ব্যাখ্যায় তাকে আরও বাস্তবধর্মী করে তোলে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও বিতর্কিত বক্তব্য বা উসকানিমূলক রাজনীতির জন্য পরিচিত ছিলেন না। বরং যুক্তি, সংযম এবং আইনের ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলে সম্মানিত ছিলেন।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে বিএনপির নেতারা প্রায়ই সাংবিধানিক দিকনির্দেশনার জন্য তার পরামর্শ নিতেন। নির্বাচনকালীন সরকার, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, সংসদের কার্যক্রম এবং বিচার বিভাগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তার মতামত ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন আইন পেশায় থাকার কারণে বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবী এবং নবীন আইনজীবীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। আদালতে তার যুক্তি, প্রস্তুতি এবং উপস্থাপনা অনেকের কাছে অনুসরণীয় ছিল।
ব্যক্তিত্বের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- অত্যন্ত মিতভাষী
- শৃঙ্খলাপরায়ণ
- সময়নিষ্ঠ
- যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী
- অহংকারবর্জিত জীবনযাপন
- রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বিশ্বাসী
- আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জীবন থেকে নতুন প্রজন্ম শিখতে পারে—সততা, অধ্যবসায়, শিক্ষা এবং নীতির সঙ্গে আপস না করে দীর্ঘ সময় জনসেবা করা সম্ভব। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন পর্যন্ত তার পথচলা অধ্যবসায়ের এক অনন্য উদাহরণ।
তার মৃত্যু শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের আইন অঙ্গন ও সংসদীয় রাজনীতির জন্যও এক বড় ক্ষতি। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তিনি। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ও প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন:
- প্রায় ৮০ বছরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা
- দেশের অন্যতম প্রবীণ ব্যারিস্টার
- বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা
- জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য
- পাঁচবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি
- একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য
- জাতীয় সংসদের স্পিকার
- বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
- সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃত
- দেশের আইন অঙ্গনের অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্ব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নাম উচ্চারিত হবে একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ, দক্ষ আইনজীবী, অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, সফল স্পিকার এবং দায়িত্বশীল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে। আইন, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার কর্মময় জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



























