ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৩ নং বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা, মাঠে জমে থাকে হাঁটু পানি Logo ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা Logo জনসন চার্লসের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, ফিরেই জেতালেন দল Logo ভিসা বন্ড ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি Logo খালেদ আহমেদ ইংল্যান্ডের কাউন্টিতে, কেন্টে নতুন চ্যালেঞ্জ Logo হামজার অভিষেকে নাটকীয় জয়, শেফিল্ডের প্রথম তিন পয়েন্ট Logo তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ত্রিবেদীর মন্তব্য Logo ইমামের চোট নিয়ে তদন্ত, বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাকিস্তানের Logo প্রিমিয়ার লিগ দলবদলে রেকর্ড, চমকপ্রদ ৩৪৬ কোটি পাউন্ড ব্যয় Logo পারেদেসের জাতীয় দল ছাড়ার ইঙ্গিত, মেসির বিদায়ের পর নতুন ধাক্কা

জিয়াউল আহসানকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মাঝির সাক্ষ্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন আব্বাস মল্লিক। ছবি: সংগৃহীত

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও হত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে তিনি ২০১০ ও ২০১১ সালের কথিত কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বন্দিদের নিয়ে যাওয়ার পর হত্যার ঘটনা ঘটত বলে তিনি দাবি করেন।

আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালে বলেন, এলাকায় অভিযান চালানোর দিন সন্ধ্যার পর স্থানীয় দোকানদারদের দোকান বন্ধ ও বাতি নিভিয়ে রাখতে বলা হতো। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের আনা হতো। পরে তাদের ট্রলারে তোলা হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষীর দাবি, বন্দিদের নিয়ে ট্রলার গভীর নদীর দিকে যাওয়ার পর তাদের একজন একজন করে বের করে আনা হতো। সেখানে র‌্যাব সদস্যরা বন্দিদের ধরে রাখতেন এবং জিয়াউল আহসান নিজে গুলি করতেন বলে তিনি ট্রাইব্যুনালে জানান। এরপর মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার আগে সিমেন্টের বস্তা ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।

আব্বাস মল্লিক আরও বলেন, কিছু বন্দিকে সুন্দরবন এলাকায় নিয়ে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো বলে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। পরে সাংবাদিকদের ডেকে লাশ হস্তান্তরের ঘটনাও ঘটত বলে সাক্ষ্যে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হবে।

সাক্ষ্যে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলকাছ র‌্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কথা বলার পর তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘জিয়া স্যার’ তাকে ডেকেছেন জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আলকাছ আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

আব্বাস মল্লিক জানান, ভাইয়ের সন্ধানে তিনি খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন র‌্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও জিয়াউল আহসান ও র‌্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আপত্তি করা হয়েছিল বলে তিনি সাক্ষ্যে দাবি করেন। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করে ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেন আব্বাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩ নং বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা, মাঠে জমে থাকে হাঁটু পানি

জিয়াউল আহসানকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মাঝির সাক্ষ্য

Update Time : ০৫:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও হত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে তিনি ২০১০ ও ২০১১ সালের কথিত কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বন্দিদের নিয়ে যাওয়ার পর হত্যার ঘটনা ঘটত বলে তিনি দাবি করেন।

আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালে বলেন, এলাকায় অভিযান চালানোর দিন সন্ধ্যার পর স্থানীয় দোকানদারদের দোকান বন্ধ ও বাতি নিভিয়ে রাখতে বলা হতো। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের আনা হতো। পরে তাদের ট্রলারে তোলা হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস: ঘটনা ও বিচার অগ্রগতি

সাক্ষীর দাবি, বন্দিদের নিয়ে ট্রলার গভীর নদীর দিকে যাওয়ার পর তাদের একজন একজন করে বের করে আনা হতো। সেখানে র‌্যাব সদস্যরা বন্দিদের ধরে রাখতেন এবং জিয়াউল আহসান নিজে গুলি করতেন বলে তিনি ট্রাইব্যুনালে জানান। এরপর মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার আগে সিমেন্টের বস্তা ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।

আব্বাস মল্লিক আরও বলেন, কিছু বন্দিকে সুন্দরবন এলাকায় নিয়ে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো বলে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। পরে সাংবাদিকদের ডেকে লাশ হস্তান্তরের ঘটনাও ঘটত বলে সাক্ষ্যে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হবে।

আরও পড়ুন  এক-এগারোর মানবতাবিরোধী অপরাধে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা

সাক্ষ্যে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলকাছ র‌্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কথা বলার পর তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘জিয়া স্যার’ তাকে ডেকেছেন জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আলকাছ আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  বিদিশা সিদ্দিক আদালতে: প্রতারণা মামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা

আব্বাস মল্লিক জানান, ভাইয়ের সন্ধানে তিনি খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন র‌্যাব কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও জিয়াউল আহসান ও র‌্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আপত্তি করা হয়েছিল বলে তিনি সাক্ষ্যে দাবি করেন। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউল আহসানকে শনাক্ত করে ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেন আব্বাস।