নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনের গলার দুটি স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে সিনারা বেগম (৫০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
প্রথমে তার দেহ তল্লাশি করে চেইন না পাওয়া গেলেও পরে এক্সরে পরীক্ষায় তার পেটের ভেতরে স্বর্ণের চেইন দুটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখানোর সময় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে।
আটক সিনারা বেগম মূলত সিলেট জেলার বাসিন্দা বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন থেকে বিবি ফাতেমা নামে এক নারী চিকিৎসা নিতে আসেন।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন দুটি কৌশলে টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সিরিয়ালে ভিড়ের মধ্যে চক্রের সদস্যরা ধাক্কা দিয়ে তার গলার চেইন দুটি সুকৌশলে খুলে নেয়।
এ সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সন্দেহ হওয়ায় সিনারা বেগমকে রোগীর স্বজনরা ঘটনাস্থলেই আটক করে তল্লাশি চালান। কিন্তু তখন তার কাছে কিছুই পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।
পরে ওই নারীকে সুধারাম মডেল থানায় নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, ধরা পড়ার ভয়ে স্বর্ণের চেইন দুটি তিনি গিলে ফেলেছেন।
এরপর হাসপাতালে নিয়ে এক্সরে পরীক্ষার মাধ্যমে তার পেটের ভেতরে চেইন দুটির অস্তিত্ব পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন।
সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার পেট থেকে স্বর্ণের চেইন দুটি বের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে এ ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























