ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপিএলে ফিক্সিং কাণ্ডে তিনজন নিষিদ্ধ, বিসিবির কঠোর পদক্ষেপ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিপিএলে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরকে ঘিরে দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমান শামীম। অন্য দুজন হলেন বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম সানি।

বিপিএলে ফিক্সিং সংক্রান্ত এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে তাদের অভিযোগের জবাব দিতে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বিসিবির ইনটিগ্রিটি ইউনিটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, দুর্নীতিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ হওয়া, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা সৃষ্টি বা অযথা বিলম্ব ঘটানো। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করেই এই অনুসন্ধান চালানো হয়।

মুখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি, মোট চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ম্যাচ বা ম্যাচের ফলাফল এবং অন্যান্য বিষয় অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ বা সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর তা যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আলামত গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

বিপিএলে ফিক্সিং অভিযোগ সামনে আসার পর মোখলেছুর রহমানের দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশের পর গত জানুয়ারিতে তিনি প্রথমে বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন। পরে বিসিবি পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। এখন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা বা সহায়তার অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার তদন্তে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে রকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুর্নীতিমূলক কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না জানানো এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের পর বিসিবি জানিয়েছে, এই পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তারা আর কোনো মন্তব্য করবে না।

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগ গঠন ও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; নির্ধারিত শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। অভিযুক্তদের জবাব ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এই অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে ফিক্সিং কাণ্ডে তিনজন নিষিদ্ধ, বিসিবির কঠোর পদক্ষেপ

Update Time : ১১:৩০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপিএলে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরকে ঘিরে দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমান শামীম। অন্য দুজন হলেন বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম সানি।

বিপিএলে ফিক্সিং সংক্রান্ত এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে তাদের অভিযোগের জবাব দিতে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বিসিবির ইনটিগ্রিটি ইউনিটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

আরও পড়ুন  হাকিমির সঙ্গে প্রেমে নোরা ফাতেহি? বিশ্বকাপে নতুন গুঞ্জন

বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, দুর্নীতিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ হওয়া, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা সৃষ্টি বা অযথা বিলম্ব ঘটানো। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করেই এই অনুসন্ধান চালানো হয়।

মুখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি, মোট চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ম্যাচ বা ম্যাচের ফলাফল এবং অন্যান্য বিষয় অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ বা সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর তা যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আলামত গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন  বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো এনএসসি, নতুন কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

বিপিএলে ফিক্সিং অভিযোগ সামনে আসার পর মোখলেছুর রহমানের দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশের পর গত জানুয়ারিতে তিনি প্রথমে বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন। পরে বিসিবি পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। এখন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা বা সহায়তার অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার তদন্তে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ স্কোয়াডে নতুন নাম

অন্যদিকে রকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুর্নীতিমূলক কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না জানানো এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের পর বিসিবি জানিয়েছে, এই পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তারা আর কোনো মন্তব্য করবে না।

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগ গঠন ও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; নির্ধারিত শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। অভিযুক্তদের জবাব ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এই অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাবে।