ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবম পে-স্কেল ২০২৬ অনুমোদন: কোন গ্রেডে কত বেতন, পেনশন ও ভাতার বিস্তারিত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন হয়েছে ২০ হাজার টাকা, আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মূল বেতন তিন ধাপে এবং নতুন ভাতাগুলো ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পেনশন ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধায় বড় পরিবর্তন এনে নবম জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার।

সোমবার, ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেলের কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। তবে পুরো বেতন ও ভাতা একদিনে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার

নতুন কাঠামোতেও সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে।২০তম গ্রেডে চাকরিতে প্রবেশের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়েছে প্রায় ১৪২ শতাংশ।অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনের ব্যবধানও কমেছে। ২০১৫ সালের স্কেলে এ অনুপাত ছিল প্রায় ১:৯.৪৫, যা নতুন কাঠামোয় প্রায় ১:৭.৮ হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত মূল বেতন

অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে—

গ্রেডপুরোনো মূল বেতননতুন মূল বেতন
১ম৭৮,০০০১,৫৬,০০০
২য়৬৬,০০০১,৩২,০০০
৩য়৫৬,৫০০১,১৩,০০০
৪র্থ৫০,০০০১,০০,০০০
৫ম৪৩,০০০৮৬,০০০
৬ষ্ঠ৩৫,৫০০৭১,০০০
৭ম২৯,০০০৫৮,০০০
৮ম২৩,০০০৪৬,০০০
৯ম২২,০০০৪৪,০০০
১০ম১৬,০০০৩২,০০০
১১তম১২,৫০০২৫,০০০
১২তম১১,৩০০২৪,৩০০
১৩তম১১,০০০২৪,০০০
১৪তম১০,২০০২৩,৫০০
১৫তম৯,৭০০২২,৮০০
১৬তম৯,৩০০২১,৯০০
১৭তম৯,০০০২১,৪০০
১৮তম৮,৮০০২১,০০০
১৯তম৮,৫০০২০,৫০০
২০তম৮,২৫০২০,০০০

অনুমোদনের আগের প্রস্তাবে ৮ম ও ৯ম গ্রেডে যথাক্রমে ৪৭ হাজার ২০০ এবং ৪৫ হাজার ১০০ টাকার কথা আলোচনায় ছিল। চূড়ান্ত অনুমোদিত কাঠামোয় তা যথাক্রমে ৪৬ হাজার ও ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কবে থেকে হাতে আসবে বাড়তি বেতন

নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতনের পুরো বৃদ্ধি একসঙ্গে দেওয়া হবে না।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে

তুলনামূলক কম বেতনের কর্মচারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বাড়িভাড়া, মোবাইলসহ সংশোধিত অন্যান্য ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।

প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ, পরবর্তী ধাপে ২৫ শতাংশ এবং শেষ ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে ধাপগুলো হবে ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ।

পেনশন বাড়ছে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, নতুন সিদ্ধান্তে বড় সুবিধা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্তরাও।

বর্তমানে যে পরিমাণ নিট পেনশন পাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান মাসিক নিট পেনশনবৃদ্ধির হার
৯,০০০ টাকা বা কম১০০%
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%
৪০,০০১ টাকা বা বেশি৫৫%

এর ফলে তুলনামূলক অনেক আগে অবসরে যাওয়া এবং বর্তমানে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।

আসছে ‘One Rank One Pension’

সরকার সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই One Rank One Pension বা OROP ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে।

তবে একসঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন এবং ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া অনেক অসামরিক কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে OROP বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগ পর্যন্ত স্ল্যাবভিত্তিক বর্ধিত পেনশন ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য আলাদা ভাতা।

প্রথমবারের মতো এ সুবিধা চালু হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাওয়া যাবে।

সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা

মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও বড় করা হয়েছে।

আগে নির্দিষ্ট উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। নতুন পে-স্কেলে ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন।

তবে কোন গ্রেডে মাসিক কত টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়া হবে, সেই বিস্তারিত হার এখনো অর্থ বিভাগের পরবর্তী প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ পাবেন সুবিধা

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

সব মিলিয়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখের বেশি

নতুন বেতন কাঠামোর কারণে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, Medium Term Budget Framework বা MTBF-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বাজেটে এই অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।

বিচারকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সরাসরি প্রয়োগ না করে একটি পৃথক কমিটি কাজ করছে।

কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কে আলাদাভাবে অনুমোদন করা হবে। তবে সেটিও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরে জাতীয় বেতনস্কেলের মতো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা

মন্ত্রিসভায় মূল কাঠামো অনুমোদিত হলেও একজন কর্মচারীর বর্তমান বেতন ঠিক কীভাবে নতুন স্কেলে নির্ধারিত হবে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কীভাবে সমন্বয় হবে, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতার হার কত হবে এবং কোন ধাপে কত টাকা হাতে পাওয়া যাবে—এসবের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম এখনো আলাদা প্রজ্ঞাপন ও আদেশে প্রকাশ করতে হবে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধার বিস্তারিত বিধান নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করা হবে

তাই নতুন পে-স্কেলের অনুমোদন হয়ে গেলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে অর্থ বিভাগের পরবর্তী প্রজ্ঞাপন। সেখানেই প্রত্যেক গ্রেডের বেতন নির্ধারণ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিস্তারিত হিসাব পরিষ্কার হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে-স্কেল ২০২৬ অনুমোদন: কোন গ্রেডে কত বেতন, পেনশন ও ভাতার বিস্তারিত

Update Time : ১০:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন হয়েছে ২০ হাজার টাকা, আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মূল বেতন তিন ধাপে এবং নতুন ভাতাগুলো ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পেনশন ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধায় বড় পরিবর্তন এনে নবম জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার।

সোমবার, ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেলের কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। তবে পুরো বেতন ও ভাতা একদিনে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার

নতুন কাঠামোতেও সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে।২০তম গ্রেডে চাকরিতে প্রবেশের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বেড়েছে প্রায় ১৪২ শতাংশ।অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনের ব্যবধানও কমেছে। ২০১৫ সালের স্কেলে এ অনুপাত ছিল প্রায় ১:৯.৪৫, যা নতুন কাঠামোয় প্রায় ১:৭.৮ হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত মূল বেতন

অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে—

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩৩ জনের চাকরি, আবেদন ১০ আগস্ট পর্যন্ত
গ্রেডপুরোনো মূল বেতননতুন মূল বেতন
১ম৭৮,০০০১,৫৬,০০০
২য়৬৬,০০০১,৩২,০০০
৩য়৫৬,৫০০১,১৩,০০০
৪র্থ৫০,০০০১,০০,০০০
৫ম৪৩,০০০৮৬,০০০
৬ষ্ঠ৩৫,৫০০৭১,০০০
৭ম২৯,০০০৫৮,০০০
৮ম২৩,০০০৪৬,০০০
৯ম২২,০০০৪৪,০০০
১০ম১৬,০০০৩২,০০০
১১তম১২,৫০০২৫,০০০
১২তম১১,৩০০২৪,৩০০
১৩তম১১,০০০২৪,০০০
১৪তম১০,২০০২৩,৫০০
১৫তম৯,৭০০২২,৮০০
১৬তম৯,৩০০২১,৯০০
১৭তম৯,০০০২১,৪০০
১৮তম৮,৮০০২১,০০০
১৯তম৮,৫০০২০,৫০০
২০তম৮,২৫০২০,০০০

অনুমোদনের আগের প্রস্তাবে ৮ম ও ৯ম গ্রেডে যথাক্রমে ৪৭ হাজার ২০০ এবং ৪৫ হাজার ১০০ টাকার কথা আলোচনায় ছিল। চূড়ান্ত অনুমোদিত কাঠামোয় তা যথাক্রমে ৪৬ হাজার ও ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কবে থেকে হাতে আসবে বাড়তি বেতন

নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতনের পুরো বৃদ্ধি একসঙ্গে দেওয়া হবে না।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে

তুলনামূলক কম বেতনের কর্মচারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বাড়িভাড়া, মোবাইলসহ সংশোধিত অন্যান্য ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।

প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ, পরবর্তী ধাপে ২৫ শতাংশ এবং শেষ ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে ধাপগুলো হবে ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ।

পেনশন বাড়ছে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, নতুন সিদ্ধান্তে বড় সুবিধা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্তরাও।

বর্তমানে যে পরিমাণ নিট পেনশন পাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  তরুণ শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে বাড়ছে অনুদান
বর্তমান মাসিক নিট পেনশনবৃদ্ধির হার
৯,০০০ টাকা বা কম১০০%
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%
৪০,০০১ টাকা বা বেশি৫৫%

এর ফলে তুলনামূলক অনেক আগে অবসরে যাওয়া এবং বর্তমানে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।

আসছে ‘One Rank One Pension’

সরকার সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই One Rank One Pension বা OROP ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে।

তবে একসঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন এবং ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া অনেক অসামরিক কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে OROP বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগ পর্যন্ত স্ল্যাবভিত্তিক বর্ধিত পেনশন ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য আলাদা ভাতা।

প্রথমবারের মতো এ সুবিধা চালু হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাওয়া যাবে।

সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা

মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও বড় করা হয়েছে।

আগে নির্দিষ্ট উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। নতুন পে-স্কেলে ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন।

তবে কোন গ্রেডে মাসিক কত টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়া হবে, সেই বিস্তারিত হার এখনো অর্থ বিভাগের পরবর্তী প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন  ডি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব (ডিইসি)’ এর নতুন কমিটি ঘোষণা, - নারী নেতৃত্বে ডিইসি।

প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ পাবেন সুবিধা

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

সব মিলিয়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখের বেশি

নতুন বেতন কাঠামোর কারণে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, Medium Term Budget Framework বা MTBF-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বাজেটে এই অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।

বিচারকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সরাসরি প্রয়োগ না করে একটি পৃথক কমিটি কাজ করছে।

কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কে আলাদাভাবে অনুমোদন করা হবে। তবে সেটিও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরে জাতীয় বেতনস্কেলের মতো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা

মন্ত্রিসভায় মূল কাঠামো অনুমোদিত হলেও একজন কর্মচারীর বর্তমান বেতন ঠিক কীভাবে নতুন স্কেলে নির্ধারিত হবে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কীভাবে সমন্বয় হবে, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতার হার কত হবে এবং কোন ধাপে কত টাকা হাতে পাওয়া যাবে—এসবের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম এখনো আলাদা প্রজ্ঞাপন ও আদেশে প্রকাশ করতে হবে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধার বিস্তারিত বিধান নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করা হবে

তাই নতুন পে-স্কেলের অনুমোদন হয়ে গেলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে অর্থ বিভাগের পরবর্তী প্রজ্ঞাপন। সেখানেই প্রত্যেক গ্রেডের বেতন নির্ধারণ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিস্তারিত হিসাব পরিষ্কার হবে।