চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ৪র্থ জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭-এর উপজেলা অডিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) উপজেলার ফয়জুল বারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ অডিশন অনুষ্ঠিত হয়।কুরআন হিফজ, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও সুমধুর কণ্ঠের প্রতিভা অনুসন্ধান এর লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।এতে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা হাফেজে কুরআন ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে হিফজুল কুরআনে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হযরত মওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.)-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
পাশাপাশি তাঁর কুরআনভিত্তিক শিক্ষার আদর্শকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।এতে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ্ এমদাদীয়া), কর্ণফুলী উপজেলা কার্যকরী সংসদ ও শাখা কমিটি সহযোগিতা করে।অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা কার্যকরী সংসদের সভাপতি মোহাম্মদ জানে আলম সওদাগর।এ সময় সহ-সভাপতি মোঃ আহসান হাবীব, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা কার্যকরী সংসদের দারুল শিক্ষাসম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম।প্রতিযোগিতার বিচারক মণ্ডলীতে ছিলেন হাফেজ ক্বারী একরাম হোসাইন, হাফেজ ক্বারী মামুনুর রশিদ ও হাফেজ ক্বারী মুহাম্মদ আল হাসান।প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোবারক আলী হোসাইনী।পরিচালনায় ছিলেন ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল করিম।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা হাফেজে কুরআন ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।৫ পারা ও ১০ পারা—এই দুই গ্রুপে মোট ২০ জন প্রতিযোগী কৃতিত্বের সঙ্গে ‘ইয়েস কার্ড’ অর্জন করেন।নির্বাচিত প্রতিযোগীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও ইয়েস কার্ড তুলে দেওয়া হয়।এ ছাড়া প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

হুসনে সাউত গ্রুপেও প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।এই গ্রুপে অংশ নেওয়া ১০ জন প্রতিযোগীকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।অডিশনে অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষকদেরও উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিযোগিতাটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন আওলাদে রাসুল, সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিকত আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আওলাদে রাসুল, নায়েব সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম এবং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।
তাঁদের তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।আয়োজকদের মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং কুরআন মুখস্থ করার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
একই সঙ্গে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও সুমধুর কণ্ঠের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করাও প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য।এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।পাশাপাশি এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিক্ষার প্রসারেও ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
আয়োজকরা আরও জানান, কুরআন শিক্ষা, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তাদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পবিত্র কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ আরও বাড়বে।কর্ণফুলীর উপজেলা অডিশনে অংশগ্রহণকারীদের সাফল্যও পরবর্তী পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় উৎসাহ দেবে।এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে কুরআনের আলোয় আলোকিত হওয়ার পথে আরও উদ্যমী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ।


























