ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাদশে ভর্তির দৌড়ে ঢাকার সেরা কলেজ কোনগুলো?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

কলেজে ভর্তিচ্ছু শীক্ষার্থী ও সেরা কলেজের প্রতীকী ছবি। গ্রাফিক্স: মীররবাংলা

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক নতুন ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। সবার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা। ভালো ফলাফল, চমৎকার শিক্ষার পরিবেশ, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনামের কারণে রাজধানীর সেরা কলেজ গুলো প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে।

উচ্চ মাধ্যমিকের এই দুই বছর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গড়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল পাঠ্যবই পড়ার সময় নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, স্বপ্ন এবং ক্যারিয়ার গঠনের পথরেখা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান ধাপ। তাই ভর্তির আগে কাঙ্ক্ষিত কলেজের শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের পছন্দ ও সাম্প্রতিক বছরগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকার এমন কিছু স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় কলেজের বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান
বরাবরের মতোই শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ঐতিহ্যবাহী নটর ডেম কলেজ। মতিঝিলে অবস্থিত ক্যাথলিক পুরোহিতদের পরিচালিত এই কলেজটি শৃঙ্খলার জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এখানকার ৩ হাজার ২৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ২২৬ জন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৪ জন। পাসের হার ছিল ৯৯.৬০ শতাংশ।

অন্যদিকে, নারী শিক্ষার প্রসারে বেইলি রোডে অবস্থিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অন্যতম জনপ্রিয় নাম। ২০২৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৪৩৪ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮৬ জন ছাত্রী। একইভাবে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত হলি ক্রস কলেজেও পাসের হার ৯৯.৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৬০ জন শিক্ষার্থী। খ্রিষ্টান মিশনারিদের পরিচালিত আসাদ অ্যাভিনিউয়ের সেইন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ও পিছিয়ে নেই। ৭১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১০ জনই পাস করেছেন, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৩৯ জন।

সেনাবাহিনী, বিজিবি ও বিমান বাহিনী পরিচালিত কলেজ
নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই কড়া শৃঙ্খলা ও অভাবনীয় ফলাফলের জন্য রাজধানীর সেরা কলেজ গুলোর তালিকায় ওপরের দিকে থাকে। ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে ২০২৫ সালে ৯৭.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২২৯ জন। জাহাঙ্গীর গেটের বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা থেকে ৯৮.৭১ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ১ হাজার ২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরের শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেও ৯৯.৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে সুনাম ধরে রেখেছেন।

পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ থেকে ৯৯.৮৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৭৪ জন। একই এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকেও ৯৮.৭৯ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ৫২৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সরকারি ও স্বনামধন্য অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ধানমন্ডিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন ঢাকা কলেজে পাসের হার ছিল ৯৯.১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫৭ জন। ফার্মগেটের সরকারি বিজ্ঞান কলেজে কেবল বিজ্ঞান বিভাগেই পড়াশোনা হয়, যেখানে পাসের হার ৯৮.৯০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৭ জন। মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে পাসের হার ৯৯.৮০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫১ জন। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজও নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উত্তরায় অবস্থিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ফলাফল ঈর্ষণীয়; ৯৯.৯৪ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ১ হাজার ২১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। একই এলাকার মাইলস্টোন কলেজে পাসের হার ৯৯.৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ৭৯১। মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া যাত্রাবাড়ীর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ তাদের অসাধারণ ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

বাণিজ্য শাখায় বিশেষায়িত কলেজ ও জাতীয় র‍্যাংকিং
বাণিজ্য বিভাগে পড়ার জন্য মিরপুরের ঢাকা কমার্স কলেজ একটি অনন্য নাম। ২০২৫ সালে এই কলেজ থেকে ২ হাজার ৮৫৪ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত (২০১৮ সালের র‍্যাংকিং যা ২০২২ সালে প্রকাশিত) কলেজ র‍্যাংকিং অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে সেরা বেসরকারি কলেজ হিসেবে ঢাকা কমার্স কলেজ নির্বাচিত হয়েছিল। সরকারি কলেজের মধ্যে সেরা ছিল রাজশাহী কলেজ। ঢাকা অঞ্চলের সেরাদের মধ্যে তেজগাঁও কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, সরকারি তোলারাম কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের নাম উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন র‍্যাংকিংয়ের কাজ শুরু হলেও চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অপেক্ষায় রয়েছে।

ভর্তিচ্ছুদের প্রতি চূড়ান্ত পরামর্শ
একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাজধানীর সেরা কলেজ গুলোর নাম কিংবা জিপিএ-৫ এর সংখ্যার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। একজন শিক্ষার্থীকে তার নিজের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল, কাঙ্ক্ষিত বিভাগ, ঐ কলেজের নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা, বাসা থেকে যাতায়াতের সুবিধা এবং সর্বোপরি নিজের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে পছন্দক্রম (Choice List) সাজাতে হবে। সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

একাদশে ভর্তির দৌড়ে ঢাকার সেরা কলেজ কোনগুলো?

Update Time : ০২:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক নতুন ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। সবার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা। ভালো ফলাফল, চমৎকার শিক্ষার পরিবেশ, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনামের কারণে রাজধানীর সেরা কলেজ গুলো প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে।

উচ্চ মাধ্যমিকের এই দুই বছর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গড়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল পাঠ্যবই পড়ার সময় নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, স্বপ্ন এবং ক্যারিয়ার গঠনের পথরেখা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান ধাপ। তাই ভর্তির আগে কাঙ্ক্ষিত কলেজের শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের পছন্দ ও সাম্প্রতিক বছরগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকার এমন কিছু স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় কলেজের বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান
বরাবরের মতোই শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ঐতিহ্যবাহী নটর ডেম কলেজ। মতিঝিলে অবস্থিত ক্যাথলিক পুরোহিতদের পরিচালিত এই কলেজটি শৃঙ্খলার জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এখানকার ৩ হাজার ২৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ২২৬ জন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৪ জন। পাসের হার ছিল ৯৯.৬০ শতাংশ।

আরও পড়ুন  সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

অন্যদিকে, নারী শিক্ষার প্রসারে বেইলি রোডে অবস্থিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অন্যতম জনপ্রিয় নাম। ২০২৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৪৩৪ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮৬ জন ছাত্রী। একইভাবে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত হলি ক্রস কলেজেও পাসের হার ৯৯.৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৬০ জন শিক্ষার্থী। খ্রিষ্টান মিশনারিদের পরিচালিত আসাদ অ্যাভিনিউয়ের সেইন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ও পিছিয়ে নেই। ৭১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১০ জনই পাস করেছেন, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৩৯ জন।

সেনাবাহিনী, বিজিবি ও বিমান বাহিনী পরিচালিত কলেজ
নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই কড়া শৃঙ্খলা ও অভাবনীয় ফলাফলের জন্য রাজধানীর সেরা কলেজ গুলোর তালিকায় ওপরের দিকে থাকে। ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে ২০২৫ সালে ৯৭.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২২৯ জন। জাহাঙ্গীর গেটের বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা থেকে ৯৮.৭১ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ১ হাজার ২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরের শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেও ৯৯.৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে সুনাম ধরে রেখেছেন।

আরও পড়ুন  চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন চালু

পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ থেকে ৯৯.৮৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৭৪ জন। একই এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকেও ৯৮.৭৯ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ৫২৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সরকারি ও স্বনামধন্য অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ধানমন্ডিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন ঢাকা কলেজে পাসের হার ছিল ৯৯.১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫৭ জন। ফার্মগেটের সরকারি বিজ্ঞান কলেজে কেবল বিজ্ঞান বিভাগেই পড়াশোনা হয়, যেখানে পাসের হার ৯৮.৯০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৭ জন। মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে পাসের হার ৯৯.৮০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫১ জন। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজও নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উত্তরায় অবস্থিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ফলাফল ঈর্ষণীয়; ৯৯.৯৪ শতাংশ পাসের পাশাপাশি ১ হাজার ২১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। একই এলাকার মাইলস্টোন কলেজে পাসের হার ৯৯.৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ৭৯১। মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পাসের হার শতভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া যাত্রাবাড়ীর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ তাদের অসাধারণ ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

আরও পড়ুন  প্রশ্ন কমন না পড়ায় ভাঙচুর, এইচএসসি কেন্দ্রে উত্তেজনা

বাণিজ্য শাখায় বিশেষায়িত কলেজ ও জাতীয় র‍্যাংকিং
বাণিজ্য বিভাগে পড়ার জন্য মিরপুরের ঢাকা কমার্স কলেজ একটি অনন্য নাম। ২০২৫ সালে এই কলেজ থেকে ২ হাজার ৮৫৪ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত (২০১৮ সালের র‍্যাংকিং যা ২০২২ সালে প্রকাশিত) কলেজ র‍্যাংকিং অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে সেরা বেসরকারি কলেজ হিসেবে ঢাকা কমার্স কলেজ নির্বাচিত হয়েছিল। সরকারি কলেজের মধ্যে সেরা ছিল রাজশাহী কলেজ। ঢাকা অঞ্চলের সেরাদের মধ্যে তেজগাঁও কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, সরকারি তোলারাম কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের নাম উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন র‍্যাংকিংয়ের কাজ শুরু হলেও চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অপেক্ষায় রয়েছে।

ভর্তিচ্ছুদের প্রতি চূড়ান্ত পরামর্শ
একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাজধানীর সেরা কলেজ গুলোর নাম কিংবা জিপিএ-৫ এর সংখ্যার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। একজন শিক্ষার্থীকে তার নিজের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল, কাঙ্ক্ষিত বিভাগ, ঐ কলেজের নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা, বাসা থেকে যাতায়াতের সুবিধা এবং সর্বোপরি নিজের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে পছন্দক্রম (Choice List) সাজাতে হবে। সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।