ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশ পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশীরভাগ খুঁটিতে জ্বলছে না সড়কবাতি, পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে Logo রাতে মাথার পাশে ফোন? মোবাইলের রেডিয়েশনের ঝুঁকি জানুন Logo গরমে শরীর সতেজ রাখার কার্যকর উপায় Logo বাংলালিংকের নিও পিএসপিকে ই-ওয়ালেটের লাইসেন্স দিল বাংলাদেশ ব্যাংক Logo এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে বাড়তে পারে গ্যাস সংকট Logo চাকরির বাজার বদলাচ্ছে, কোন বিষয়ে পড়বেন এখন? Logo গভর্নিং বডি নয়, শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএই বহাল Logo বাংলাদেশে সবাই অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ Logo ঘুমাতেই ভ্রমণ! কেন জনপ্রিয় হচ্ছে স্লিপ ট্যুরিজম? Logo ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্ন নিয়োগ, আবেদন করা যাবে অনলাইনে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৫৩৭

চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও করিডোর পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। — ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য বাণিজ্য, যোগাযোগ ও ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা। প্রস্তাবটি উঠে আসে বাংলাদেশ ও চীন—China—এর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে, যেখানে আঞ্চলিক সংযোগকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে।

বৈঠকে আলোচনা হয় যে এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বিশেষ করে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন দ্রুত ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর—Chittagong Port এবং Mongla Port—কে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্য ব্যবস্থাও উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে চীনা ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং টেকনিক্যাল সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রোবোটিক সার্জারি, আধুনিক হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও চীনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা সহজীকরণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। চীন জানিয়েছে যে তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য বিদেশগামী মানুষের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে। একইসঙ্গে ব্রিকস (BRICS) প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে চীন স্বাগত জানিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।

এই পুরো আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি নতুন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অর্থনৈতিক করিডোর, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশ পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশীরভাগ খুঁটিতে জ্বলছে না সড়কবাতি, পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব

Update Time : ১২:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য বাণিজ্য, যোগাযোগ ও ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা। প্রস্তাবটি উঠে আসে বাংলাদেশ ও চীন—China—এর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে, যেখানে আঞ্চলিক সংযোগকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে।

বৈঠকে আলোচনা হয় যে এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বিশেষ করে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন দ্রুত ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর—Chittagong Port এবং Mongla Port—কে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্য ব্যবস্থাও উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে চীনা ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং টেকনিক্যাল সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রোবোটিক সার্জারি, আধুনিক হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও চীনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা সহজীকরণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। চীন জানিয়েছে যে তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য বিদেশগামী মানুষের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে। একইসঙ্গে ব্রিকস (BRICS) প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে চীন স্বাগত জানিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।

এই পুরো আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি নতুন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অর্থনৈতিক করিডোর, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।