ফলাফল প্রকাশের পরদিন চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ১৯ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চলতি বছর চট্টগ্রাম নগরের একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের এক দিন পর এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির একটি কক্ষে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি বাকলিয়া থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই ওই শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত ছিল। ফলাফল প্রকাশের পর তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরেও আসে বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে ফলাফল ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন, পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের পরদিনই চট্টগ্রামে এ ঘটনা ঘটল। পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে হতাশা থেকে শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু পরিবারের মধ্যে শোকের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে।
পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার ও স্বজনদের উচিত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা এবং তার মানসিক অবস্থার দিকে গুরুত্ব দেওয়া। ফলাফল জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নয়—এমন বার্তা দিয়ে পাশে থাকা জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে তাকে একা না রেখে পরিবার বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।


























