ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাহিদ রানা নিয়ে ওয়েবস্টারের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

নাহিদ রানার অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা—ওয়েবস্টার | ছবি: সংগৃহীত

ডান হাতে পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংই করতে পারেন বো ওয়েবস্টার। অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডারের ক্রিকেটীয় বৈচিত্র্য যেমন নজরকাড়া, তেমনি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কথাতেও ছিল বেশ কিছু আগ্রহের বিষয়। ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে কথা বলতে এসে নিজের দাড়ি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ—সবই নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে ওয়েবস্টারের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন নাহিদ রানা। চোটের কারণে এই সিরিজে বাংলাদেশের অন্যতম গতিময় পেসারকে না পাওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন তিনি। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হওয়ার কথা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে অবশ্য নাহিদ নয়, ওয়েবস্টারের দাড়িই হয়ে উঠেছিল আলোচনার বিষয়। বেশ কিছুদিন ধরে শেভ না করায় তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই নতুন চেহারার পেছনে অনুপ্রেরণা কী। ওয়েবস্টার হাসতে হাসতে জানান, আসলে এর পেছনে বড় কোনো পরিকল্পনা নেই, মূল কারণ আলস্য। বাইরে থাকার কারণে বাড়ি যেতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। সাধারণত তাঁর মা চুল কাটেন, কারণ তিনি পেশায় হেয়ারড্রেসার। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার পর এখন জাতীয় দলের সঙ্গে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ওয়েবস্টার। আর সেই প্রস্তুতির মাঝেই বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টে নাহিদ রানার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ওয়েবস্টারের কথায় বোঝা গেছে, প্রতিপক্ষের এই পেসার সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে যথেষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, ওয়ানডে সিরিজে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করা নাহিদকে আক্রমণে না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতি। শুধু গতি নয়, ব্যাটসম্যানের ওপর চাপ তৈরি করার ক্ষমতাও নাহিদের বড় অস্ত্র বলে মনে করেন তিনি। ওয়েবস্টার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে নাহিদের আগ্রাসী মানসিকতার কথাও জেনেছেন। তাই এমন একজন বোলারকে না পাওয়া বাংলাদেশের কাজকে আরও কঠিন করে তুলবে বলেই তাঁর ধারণা। নাহিদ রানার চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড; তাঁর পুনর্বাসনে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগার কথা জানানো হয়েছিল।

ওয়েবস্টারের এই মূল্যায়নের পেছনে অবশ্য সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও আছে। গত জুনে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল এবং দুই ম্যাচ খেলে নাহিদ নিয়েছিলেন চার উইকেট। সেই সিরিজে তাঁর গতি ও বোলিংয়ের আক্রমণাত্মক ধরন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের নজরে পড়াই স্বাভাবিক। এবার টেস্ট সিরিজে সেই অভিজ্ঞ পেসারকে ছাড়া বাংলাদেশকে খেলতে হবে। ফলে তাসকিন আহমেদ, মুশফিক হাসান, খালেদ আহমেদ ও অন্য পেসারদের ওপর দায়িত্ব আরও বাড়ছে। ICC-এর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ডারউইনে এবং দ্বিতীয় টেস্ট ২২ থেকে ২৬ আগস্ট ম্যাকে অনুষ্ঠিত হবে।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জন্য রয়েছে কিছুটা অনিশ্চয়তা। ওয়েবস্টার বলেছেন, বাংলাদেশের বোলাররা এই উইকেটে কেমন করবেন, সে বিষয়েও তাঁদের পুরোপুরি পরিষ্কার ধারণা নেই। কারণ ডারউইনে দীর্ঘ বিরতির পর আবার টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। তাই কন্ডিশন দুই দলের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবেন, কিন্তু ওয়েবস্টারের বক্তব্যে পরিষ্কার—বাংলাদেশের বোলিংকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছে না। বিশেষ করে নাহিদের গতি ও আগ্রাসন যে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিংয়ের জন্যও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, সেটিই তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস অবশ্য খুব একটা সুখকর নয়। ২০০৩ সালের সফরে দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে দলটি। এবার তাই পুরোনো পরিসংখ্যান বদলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও আছে বাংলাদেশের সামনে। নাহিদ রানার অনুপস্থিতি সেই চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করেছে। তবে ওয়েবস্টারের মন্তব্য একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য একটি বার্তাও—প্রতিপক্ষের নজরে নাহিদের মতো একজন তরুণ পেসারের গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর অনুপস্থিতিতে তাসকিনদের সামনে দায়িত্ব হবে সেই ঘাটতি যতটা সম্ভব পূরণ করা। আর ডারউইনের নতুন কন্ডিশনে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিই হবে সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাহিদ রানা নিয়ে ওয়েবস্টারের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

Update Time : ০৮:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ডান হাতে পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংই করতে পারেন বো ওয়েবস্টার। অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডারের ক্রিকেটীয় বৈচিত্র্য যেমন নজরকাড়া, তেমনি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কথাতেও ছিল বেশ কিছু আগ্রহের বিষয়। ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে কথা বলতে এসে নিজের দাড়ি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ—সবই নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে ওয়েবস্টারের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন নাহিদ রানা। চোটের কারণে এই সিরিজে বাংলাদেশের অন্যতম গতিময় পেসারকে না পাওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন তিনি। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হওয়ার কথা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে অবশ্য নাহিদ নয়, ওয়েবস্টারের দাড়িই হয়ে উঠেছিল আলোচনার বিষয়। বেশ কিছুদিন ধরে শেভ না করায় তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই নতুন চেহারার পেছনে অনুপ্রেরণা কী। ওয়েবস্টার হাসতে হাসতে জানান, আসলে এর পেছনে বড় কোনো পরিকল্পনা নেই, মূল কারণ আলস্য। বাইরে থাকার কারণে বাড়ি যেতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। সাধারণত তাঁর মা চুল কাটেন, কারণ তিনি পেশায় হেয়ারড্রেসার। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার পর এখন জাতীয় দলের সঙ্গে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ওয়েবস্টার। আর সেই প্রস্তুতির মাঝেই বাংলাদেশের বোলিং নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে: দুর্দান্ত জয়ে সিরিজে সমতা ফিরল

বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টে নাহিদ রানার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ওয়েবস্টারের কথায় বোঝা গেছে, প্রতিপক্ষের এই পেসার সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে যথেষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, ওয়ানডে সিরিজে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করা নাহিদকে আক্রমণে না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতি। শুধু গতি নয়, ব্যাটসম্যানের ওপর চাপ তৈরি করার ক্ষমতাও নাহিদের বড় অস্ত্র বলে মনে করেন তিনি। ওয়েবস্টার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে নাহিদের আগ্রাসী মানসিকতার কথাও জেনেছেন। তাই এমন একজন বোলারকে না পাওয়া বাংলাদেশের কাজকে আরও কঠিন করে তুলবে বলেই তাঁর ধারণা। নাহিদ রানার চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড; তাঁর পুনর্বাসনে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগার কথা জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন  ভালো প্রস্তুতি হয়েছে : অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলনের পর তাইজুল

ওয়েবস্টারের এই মূল্যায়নের পেছনে অবশ্য সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও আছে। গত জুনে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল এবং দুই ম্যাচ খেলে নাহিদ নিয়েছিলেন চার উইকেট। সেই সিরিজে তাঁর গতি ও বোলিংয়ের আক্রমণাত্মক ধরন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের নজরে পড়াই স্বাভাবিক। এবার টেস্ট সিরিজে সেই অভিজ্ঞ পেসারকে ছাড়া বাংলাদেশকে খেলতে হবে। ফলে তাসকিন আহমেদ, মুশফিক হাসান, খালেদ আহমেদ ও অন্য পেসারদের ওপর দায়িত্ব আরও বাড়ছে। ICC-এর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ডারউইনে এবং দ্বিতীয় টেস্ট ২২ থেকে ২৬ আগস্ট ম্যাকে অনুষ্ঠিত হবে।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জন্য রয়েছে কিছুটা অনিশ্চয়তা। ওয়েবস্টার বলেছেন, বাংলাদেশের বোলাররা এই উইকেটে কেমন করবেন, সে বিষয়েও তাঁদের পুরোপুরি পরিষ্কার ধারণা নেই। কারণ ডারউইনে দীর্ঘ বিরতির পর আবার টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। তাই কন্ডিশন দুই দলের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবেন, কিন্তু ওয়েবস্টারের বক্তব্যে পরিষ্কার—বাংলাদেশের বোলিংকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছে না। বিশেষ করে নাহিদের গতি ও আগ্রাসন যে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিংয়ের জন্যও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, সেটিই তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট।

আরও পড়ুন  ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস অবশ্য খুব একটা সুখকর নয়। ২০০৩ সালের সফরে দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে দলটি। এবার তাই পুরোনো পরিসংখ্যান বদলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও আছে বাংলাদেশের সামনে। নাহিদ রানার অনুপস্থিতি সেই চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করেছে। তবে ওয়েবস্টারের মন্তব্য একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য একটি বার্তাও—প্রতিপক্ষের নজরে নাহিদের মতো একজন তরুণ পেসারের গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর অনুপস্থিতিতে তাসকিনদের সামনে দায়িত্ব হবে সেই ঘাটতি যতটা সম্ভব পূরণ করা। আর ডারউইনের নতুন কন্ডিশনে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিই হবে সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ।