বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ৩৪ রানের জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সফরকারীরা জিম্বাবুয়েকে ১৫২ রানে অলআউট করে গুরুত্বপূর্ণ এই জয় নিশ্চিত করে। এখন সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা।
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। দুজনের ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। তানজিদ ৫৮ এবং সাইফ নিজের ফিফটি পূর্ণ করার পর বিদায় নেন।
তবে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হঠাৎই ব্যাটিং ধসে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৩ বলের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। একসময় মনে হচ্ছিল ২০০ রানের সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ ১৬০–১৭০ রানের মধ্যেই থেমে যাবে। কিন্তু শেষ দিকে ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ঝড়ো ব্যাটিং করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
ইয়াসির আলী মাত্র ১২ বলে ২২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে সবচেয়ে আলোচনায় ছিলেন সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সকে টানা চার বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এই ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান তোলে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। মেহেদী হাসান ও নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। পরে সিকান্দার রাজা ও মিল্টন সামুবা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা বড় ইনিংসে রূপ নিতে পারেনি। শেষ দিকে রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্স দ্রুত রান তুললেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি।
বল হাতে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে ১৫২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। তবে জয়ের মাঝেও কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নাহিদ রানার চোট। বোলিংয়ের সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি এবং আর ফিরে আসেননি। এখন তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টির আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে নজর থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের। আগামী রোববার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।
























