ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কী বলছে নিয়ম?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৯

লিওনেল মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার উদ্‌যাপন। ছবি: সংগৃহীত

মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ফুটবলবিশ্বে আলোচনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের বাইরে খেলেও কি লিওনেল মেসি বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত ফুটবল পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন? বর্তমান নিয়ম বলছে, এর উত্তর হলো ‘হ্যাঁ’।

একসময় ব্যালন ডি’অর শুধুমাত্র ইউরোপের ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। পরে নিয়ম পরিবর্তন করে বিশ্বের যেকোনো দেশের খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়, তবে শর্ত ছিল তাঁকে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলতে হবে। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে সেই শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারই ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।

এই বিষয়টি সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল-ও স্পষ্ট করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউরোপের বাইরে খেলেও ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়। ফলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেললেও মেসির জন্য পুরস্কার জয়ের দরজা পুরোপুরি খোলা রয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, মেসি সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইন্টার মায়ামির ফুটবলার হিসেবে। তবে সেই পুরস্কারটি মূলত পিএসজির হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল। কারণ বর্তমানে ব্যালন ডি’অর মূল্যায়ন করা হয় পুরো ক্যালেন্ডার বছর নয়, বরং নির্দিষ্ট মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে।

এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে করেছেন ৮ গোল, করিয়েছেন আরও ৪টি। দলকে তুলেছেন ফাইনালে। গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট—দুই পুরস্কারের দৌড়েই তিনি অন্যতম শীর্ষ দাবিদার।

জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করে চলেছেন তিনি। ব্যালন ডি’অরের বিবেচ্য সময়সীমায় জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যাও ঈর্ষণীয়। ফলে বিশ্বকাপে সাফল্যের সঙ্গে ক্লাব পারফরম্যান্স যুক্ত হওয়ায় নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তবে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের লড়াই নির্ভর করবে পুরো মৌসুমের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর। বিশ্বকাপ বড় একটি ভূমিকা রাখলেও ক্লাব ফুটবলের অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ইউরোপের বাইরে খেললেও বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এখন দেখার বিষয়, ভোটাভুটিতে তিনি আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান নিজের করে নিতে পারেন কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কী বলছে নিয়ম?

Update Time : ১০:৩৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ফুটবলবিশ্বে আলোচনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের বাইরে খেলেও কি লিওনেল মেসি বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত ফুটবল পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন? বর্তমান নিয়ম বলছে, এর উত্তর হলো ‘হ্যাঁ’।

একসময় ব্যালন ডি’অর শুধুমাত্র ইউরোপের ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। পরে নিয়ম পরিবর্তন করে বিশ্বের যেকোনো দেশের খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়, তবে শর্ত ছিল তাঁকে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলতে হবে। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে সেই শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারই ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন  ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজ মানিতে নতুন ইতিহাস

এই বিষয়টি সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল-ও স্পষ্ট করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউরোপের বাইরে খেলেও ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়। ফলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেললেও মেসির জন্য পুরস্কার জয়ের দরজা পুরোপুরি খোলা রয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, মেসি সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইন্টার মায়ামির ফুটবলার হিসেবে। তবে সেই পুরস্কারটি মূলত পিএসজির হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল। কারণ বর্তমানে ব্যালন ডি’অর মূল্যায়ন করা হয় পুরো ক্যালেন্ডার বছর নয়, বরং নির্দিষ্ট মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া কেপ ভার্দের কে এই লোপেজ

এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে করেছেন ৮ গোল, করিয়েছেন আরও ৪টি। দলকে তুলেছেন ফাইনালে। গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট—দুই পুরস্কারের দৌড়েই তিনি অন্যতম শীর্ষ দাবিদার।

জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্ট করে চলেছেন তিনি। ব্যালন ডি’অরের বিবেচ্য সময়সীমায় জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যাও ঈর্ষণীয়। ফলে বিশ্বকাপে সাফল্যের সঙ্গে ক্লাব পারফরম্যান্স যুক্ত হওয়ায় নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

আরও পড়ুন  নেইমার প্রত্যাবর্তন: স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে পুরোপুরি প্রস্তুত ব্রাজিল তারকা

তবে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের লড়াই নির্ভর করবে পুরো মৌসুমের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর। বিশ্বকাপ বড় একটি ভূমিকা রাখলেও ক্লাব ফুটবলের অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ইউরোপের বাইরে খেললেও বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এখন দেখার বিষয়, ভোটাভুটিতে তিনি আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান নিজের করে নিতে পারেন কি না।