ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কালোনির আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি ইউরোপ, স্পেন কি পারবে?

লিওনেল স্কালোনি

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নের একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে রবিবার ইউরোপসেরা স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল। ম্যাচটির আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলছে একটি অসাধারণ পরিসংখ্যান—লিওনেল স্কালোনির অধীনে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এখনো হারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

২০১৮ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন স্কালোনি। তাঁর অধীনে দলটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের মতো বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে গড়ে তুলেছে দুর্দান্ত এক অপরাজিত রেকর্ড।

স্কালোনির কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর বিপক্ষে ১১টি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এসব ম্যাচে তারা ৮টি জয় পেয়েছে এবং ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সময়ের মধ্যে একবারও পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়নি দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তিকে।

এই রেকর্ডের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনাল। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেই ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই জয়ের মধ্য দিয়েই ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে দলটি।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের ফিনালিসিমা ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আরও একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিল স্কালোনির দল। ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার আধিপত্য ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল।

স্বাভাবিকভাবেই লাতিন আমেরিকার দল হওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত খেলার সুযোগ খুব বেশি পায় না আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ, ফিনালিসিমা এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচই মূলত তাদের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্র। তবুও সীমিত সুযোগে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য বারবার প্রমাণ করেছে তারা।

স্কালোনির অধীনে খেলা ১১টি ম্যাচের মধ্যে চারটি হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। অন্যদিকে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও ইতোমধ্যে তিনটি ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা। প্রতিটি ম্যাচেই তারা ইতিবাচক ফল নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

এই রেকর্ড শুধু জাতীয় দলের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ থাকাকালেও ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সফল ছিলেন স্কালোনি। সে সময় রাশিয়ার বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে তাঁর দল ২-১ গোলের জয় পেয়েছিল।

খেলোয়াড়ি জীবনেও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি স্কালোনি। তবে দুটি ম্যাচের একটিতে জার্মানির সঙ্গে ড্র এবং অন্যটিতে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিলেন তিনি। ফলে ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত রেকর্ডও বেশ ইতিবাচক।

এবারের ফাইনালে অবশ্য আর্জেন্টিনার সামনে থাকবে নতুন চ্যালেঞ্জ। তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে গড়া স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। তবে অতীতের পরিসংখ্যান, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং স্কালোনির কৌশলগত দক্ষতা আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে পরিসংখ্যান সবসময় শেষ কথা বলে না। তারপরও ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে স্কালোনির দীর্ঘদিনের অপরাজিত রেকর্ড আর্জেন্টিনার জন্য নিঃসন্দেহে বড় অনুপ্রেরণা। এখন দেখার বিষয়, স্পেন কি এই রেকর্ড ভাঙতে পারে, নাকি আরও একবার ইউরোপের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখে আর্জেন্টিনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কালোনির আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি ইউরোপ, স্পেন কি পারবে?

Update Time : ১০:৩৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নের একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে রবিবার ইউরোপসেরা স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল। ম্যাচটির আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলছে একটি অসাধারণ পরিসংখ্যান—লিওনেল স্কালোনির অধীনে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এখনো হারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

২০১৮ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন স্কালোনি। তাঁর অধীনে দলটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের মতো বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে গড়ে তুলেছে দুর্দান্ত এক অপরাজিত রেকর্ড।

স্কালোনির কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর বিপক্ষে ১১টি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এসব ম্যাচে তারা ৮টি জয় পেয়েছে এবং ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সময়ের মধ্যে একবারও পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়নি দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তিকে।

আরও পড়ুন  নেইমারের চোটে উদ্বেগ, প্রস্তুতি ম্যাচে খেলছেন না ব্রাজিল তারকা

এই রেকর্ডের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনাল। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেই ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই জয়ের মধ্য দিয়েই ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে দলটি।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালের ফিনালিসিমা ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আরও একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিল স্কালোনির দল। ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার আধিপত্য ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল।

স্বাভাবিকভাবেই লাতিন আমেরিকার দল হওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত খেলার সুযোগ খুব বেশি পায় না আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ, ফিনালিসিমা এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচই মূলত তাদের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্র। তবুও সীমিত সুযোগে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য বারবার প্রমাণ করেছে তারা।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ এ দলের সিরিজ স্থগিত শ্রীলঙ্কা এ দলের বাংলাদেশ সফর পিছিয়েছে

স্কালোনির অধীনে খেলা ১১টি ম্যাচের মধ্যে চারটি হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। অন্যদিকে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও ইতোমধ্যে তিনটি ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা। প্রতিটি ম্যাচেই তারা ইতিবাচক ফল নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

এই রেকর্ড শুধু জাতীয় দলের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ থাকাকালেও ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সফল ছিলেন স্কালোনি। সে সময় রাশিয়ার বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে তাঁর দল ২-১ গোলের জয় পেয়েছিল।

খেলোয়াড়ি জীবনেও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি স্কালোনি। তবে দুটি ম্যাচের একটিতে জার্মানির সঙ্গে ড্র এবং অন্যটিতে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিলেন তিনি। ফলে ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত রেকর্ডও বেশ ইতিবাচক।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলের হেক্সা মিশন: গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সম্ভাব্য পথ

এবারের ফাইনালে অবশ্য আর্জেন্টিনার সামনে থাকবে নতুন চ্যালেঞ্জ। তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে গড়া স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। তবে অতীতের পরিসংখ্যান, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং স্কালোনির কৌশলগত দক্ষতা আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে পরিসংখ্যান সবসময় শেষ কথা বলে না। তারপরও ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে স্কালোনির দীর্ঘদিনের অপরাজিত রেকর্ড আর্জেন্টিনার জন্য নিঃসন্দেহে বড় অনুপ্রেরণা। এখন দেখার বিষয়, স্পেন কি এই রেকর্ড ভাঙতে পারে, নাকি আরও একবার ইউরোপের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখে আর্জেন্টিনা।