লিওনেল মেসির সঙ্গে ম্যাচের পর একটি ছবি তোলার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল তরুণ ফুটবলার সিডনি লোপেজ কাবরালের। বহু বছর পর বুড়ো বয়সে নাতি-নাতনিদের এই রূপকথার গল্প শোনানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তবে মাঠের নামার আগে বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে নিয়ে ভেবে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা নষ্ট করতে চাননি কেপ ভার্দের এই স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষে হয়তো আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে অঝোরে কেঁদেছেন তিনি, কিন্তু তার আগেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের নামটা স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেলেছেন ২৩ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক।
লিসান্দ্রো মার্তিনেজের চোখ ধাঁধানো গোলে আর্জেন্টিনা যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন সিডনি লোপেজ। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে চিতা বাঘের মতো গতিতে কাট-ইন করে ভেতরে ঢোকেন তিনি। এরপর ডান পায়ের এক বুলেট গতির শটে পরাস্ত করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে, যা চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এই এক গোলেই ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দের এই ছেলেটি এখন ফুটবল দুনিয়ার নতুন ক্রাশ। অথচ মাত্র দুই বছর আগেও জার্মানির পঞ্চম ডিভিশনে খেলতেন এই ফুটবলার, যেখানে পলিথিন দিয়ে ঘরের জানালার পর্দা বানাতে হতো তাকে।
বন্ধুরা একসময় যাকে ‘পাগল’ বলতো, রাত ৩টা পর্যন্ত পার্টি করে সকাল ১০টায় অনুশীলনে নামা সেই ছেলেই আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। মাসের মাত্র সাড়ে আট শ ডলার বেতন পাওয়া লোপেজ আজ ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসির বিপক্ষে গোল করে বিশ্ব গণমাধ্যমের হেডলাইন। ফিফা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল নিউজ পোর্টাল অনুসারে, লোপেজের এই অবিশ্বাস্য উত্থান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কামব্যাক স্টোরি। ম্যাচ শেষে লোপেজ মেসিদের সাথে ছবি তুলতে পেরেছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এখন থেকে লোপেজের সাথে ছবি তোলার জন্য ভক্তদের লাইন লাগবে তা নিশ্চিত।


























