বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হতাশাজনক এক পরাজয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে টাইগাররা। বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। শেষ তিন ওভারে হাতে পাঁচ উইকেট থাকলেও মাত্র ৮ রানে শেষ পাঁচ ব্যাটারকে হারিয়ে জয় থেকে ছিটকে পড়ে সফরকারীরা। এর ফলে চলতি সফরে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়ের কাছে হার দেখতে হলো বাংলাদেশকে।
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস চোটের কারণে খেলতে না পারায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন হৃদয়। শুরুতে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলে দেন। তবে মাঝের ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন নাহিদ রানা।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ রানা। চার ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন এই তরুণ পেসার। ইনিংসের ১৮তম ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি কমিয়ে দেন তিনি। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তবুও রায়ান বার্ল ও ব্রেড ইভান্সের শেষ দিকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭০ রান সংগ্রহ করে।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে চাপে পড়ে দল। এরপর তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের জুটিতে জয়ের আশা জাগলেও হৃদয় ১৪ রান করে আউট হলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
দীর্ঘ তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে ইয়াসির আলী দুর্দান্ত একটি অর্ধশতক তুলে নেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪১ রান, হাতে ছিল পাঁচ উইকেট। সেই সময়ও ম্যাচে ফিরতে পারত টাইগাররা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্যাটিং ধসে মাত্র ৮ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৩২ রানের পরাজয় মেনে নিতে হয়।
এই হারে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে। ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, পাওয়ার প্লেতে ভালো শুরু এবং শেষের ওভারে চাপ সামলানো—এই তিনটি দিকেই উন্নতি আনতে হবে টাইগারদের। অন্যদিকে নাহিদ রানার বোলিং ও ইয়াসির আলীর ফিফটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



























