কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর স্ত্রী ও নবজাতককে ক্লিনিকে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোরের কেশবপুরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রসূতি মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং তাঁদের মায়ের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিনের আগে থেকেই একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত ৮ জুলাই তাঁর স্ত্রী মোসাম্মৎ সাজেদা স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দ্বিতীয়বারও কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার খবরের পর থেকেই স্বামী ক্লিনিকে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে প্রসূতি ও নবজাতকের দেখভালের দায়িত্ব অনেকটাই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ওপর পড়ে যায়।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ইউএনও রেকসোনা খাতুন ক্লিনিকে গিয়ে মা ও শিশুর খোঁজ নেন। পরে তাঁদের নিরাপদে সাজেদার মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার এবং কিছু আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষও অস্ত্রোপচারের প্রায় ১২ হাজার টাকার বিল মওকুফ করে দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা রুহুল আমিন। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লিনিকে যেতে পারেননি। ট্রাকের সহকারীর কাজ করে সংসার চালাতে হয়, তাই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি দাবি করেন, কন্যাসন্তান জন্ম হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ নেননি—এ অভিযোগ সঠিক নয়। দ্রুতই তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসবেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মা ও নবজাতককে আবার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সমাজে এখনো অনেক ক্ষেত্রে কন্যাশিশু অবহেলার শিকার হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানবিক সহায়তাও নিশ্চিত করা।
সাজেদার মা রাফিজা জানান, তাঁর জামাতা আগেও প্রথম সন্তানের জন্মের সময় চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্ব নেননি। তিনি বিভিন্ন বাসায় কাজ করে সংসার চালান। মেয়ের পাশে সব সময় থাকতে না পারলেও প্রশাসনের সহযোগিতায় এখন মেয়ে ও নাতনি নিরাপদে আছেন। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতে পরিবারের মধ্যে এই মা ও দুই কন্যাশিশু যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবেন।




























