বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ম্যাচ ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমর্থকদের উত্তাপ। নিজেদের দল আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় অনেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থক এবার প্রকাশ্যে ইংল্যান্ডের পক্ষ নিচ্ছেন। মূল লক্ষ্য, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে হারতে দেখা।
বিশ্বকাপে এমন দৃশ্য নতুন নয়। কোনো দলের বিদায়ের পর সেই দলের সমর্থকদের একটি অংশ টুর্নামেন্টে টিকে থাকা অন্য কোনো দলকে সমর্থন করে থাকে। তবে অনেক সময় সেই সমর্থনের মূল কারণ হয় নির্দিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যেতে দেখা। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এবার সেই আলোচনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
গত কয়েক ঘণ্টায় ব্রাজিলের বিভিন্ন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এবং ইংল্যান্ডের পক্ষে একাধিক পোস্ট প্রকাশ করেছেন। এসব পোস্টে কেউ ইংল্যান্ডের জয়ের কামনা করেছেন, আবার কেউ রসিকতার মাধ্যমে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
একটি ভাইরাল পোস্টে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামকে ব্রাজিলের জার্সি পরানো একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘ব্রাজিল মানেই ইংল্যান্ড’। অন্য কিছু পোস্টে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। যদিও এসবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের মতামত ও খুনসুটির অংশ।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করতে দেখা গেছে ব্রাজিলের জনপ্রিয় কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম CazéTV-কে। তাদের কয়েকটি পোস্টে মজার ছলে ব্রিটিশদেরও ‘ল্যাটিন আমেরিকান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, আর্জেন্টিনা ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ নিরপেক্ষ সমর্থক নাকি আজ ইংল্যান্ডের পক্ষেই থাকবেন।
ফুটবলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু দশকের। দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে এমন খুনসুটি বড় টুর্নামেন্টে প্রায়ই দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেশি চোখে পড়ে, যেখানে মিম, ব্যঙ্গ এবং রসিকতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন সমর্থকরা।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চিত্রই পুরো ব্রাজিলের জনমতকে তুলে ধরে—এমনটি বলা যাবে না। দেশটির সব সমর্থক যে ইংল্যান্ডকে সমর্থন করছেন, তারও কোনো প্রমাণ নেই। অনেক ব্রাজিলিয়ান আবার আর্জেন্টিনার জয়ও চাইতে পারেন। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ের ফলই নির্ধারণ করবে কে এগিয়ে যাবে, আর সমর্থকদের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলের আবেগকেই আরও রঙিন করে তুলবে।




























