ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের তিনটি গোলই করেছেন লিওনেল মেসি, যার পারফরম্যান্স দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন কোচ।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়া রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খেললেও মেসির জাদুকরী নৈপুণ্যের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি তারা। ম্যাচজুড়ে বল দখল, পাসিং ও সুযোগ তৈরিতে ছিল আর্জেন্টিনার পূর্ণ আধিপত্য।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে নামার আগে তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ১৩। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করে তিনি এখন ১৬ গোল নিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।
আর মাত্র একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসবেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সেও তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে, সময় তার প্রতিভাকে একটুও ম্লান করতে পারেনি। বরং অভিজ্ঞতা তাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসিকে নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘মেসিকে কীভাবে বর্ণনা করব সেই ভাষা আমার জানা নেই। এটা স্রেফ অবিশ্বাস্য। এরচেয়ে আর কী বলার থাকতে পারে?’
স্কালোনি আরও বলেন, গত দুই দশক ধরে একই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব ফুটবলকে মুগ্ধ করে চলেছেন মেসি। তার মতে, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ফুটবল সমর্থক শুধু মেসিকে মাঠে দেখার জন্যই ম্যাচের অপেক্ষায় থাকে। কারণ তিনি এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি প্রতিটি ম্যাচকে বিশেষ করে তুলতে পারেন।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে নিজের প্রথম গোলটি করেন মেসি। গোল করার পর তাকে কিছুটা আবেগাপ্লুতও দেখা যায়। দীর্ঘ দুই দশকের বিশ্বকাপ যাত্রা, অসংখ্য সাফল্য আর নতুন নতুন ইতিহাস তৈরির মুহূর্ত যেন সেই আবেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
মজার বিষয় হলো, মেসির প্রথম বিশ্বকাপ গোলও এসেছিল ১৬ জুন তারিখে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে গোল করে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতাদের একজন হয়েছিলেন তিনি। ঠিক ২০ বছর পর একই দিনে আবারও বিশ্বকাপে বিশেষ এক অধ্যায় লিখলেন এই মহাতারকা।
স্কালোনি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন মেসির লড়াকু মানসিকতার কথাও। তিনি বলেন, মেসি কখনোই মাঠের একটি বলও সহজে ছেড়ে দেন না। এই মানসিকতাই পুরো দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং আর্জেন্টিনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
আর্জেন্টিনার সামনে এখন গ্রুপ পর্বের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অপেক্ষা করছে। ‘জে’ গ্রুপে আগামী ২২ জুন অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তেরা।
প্রথম ম্যাচের এমন দাপুটে জয় নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আর মেসি যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ২০২৬ বিশ্বকাপেও শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করবে স্কালোনির দল।





























