ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর Logo গ্যাসের দাম বাড়বে না: সুখবর জানাল পেট্রোবাংলা | Logo মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা: ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় ইতিবাচক বার্তা Logo সঞ্জয় দেবের সংগ্রাম: অবিশ্বাস্য পথচলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কঠিন দিন Logo জুলাই অভ্যুত্থান: শক্তিশালী সংস্কার ও বিচার নিয়ে নতুন বার্তা Logo জিমি বাংলাদেশের মেসি: চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন গেরহার্ড Logo বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা Logo ফুটবলে আগ্রহ কমছে: ৩৬% ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের খবরই রাখেন না | জরিপে চমক Logo কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে বড় সুখবর, আসছে নতুন ব্যবস্থাপনা Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাটিং ধস, বড় হারে শুরু বাংলাদেশের

বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা

বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে গো আপ ফাউন্ডেশন। ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান বন্যা ত্রাণ কার্যক্রমে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংগঠন গো আপ ফাউন্ডেশন। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি ১০ দিনব্যাপী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে শত শত পরিবারের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির উপকরণ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পাহাড়ি গ্রামে প্রায় ৭৫৬টি পরিবার এই উদ্যোগের আওতায় আসে। তারাচা, ছ্যাংগা, বটতলী, গোয়েলাখোলা, ফজর আলী পাড়া, ব্রিগেড এলাকা, মুসলিম পাড়া, চড়ুই পাড়া, ভরাখালী ও লাঙ্গিপাড়াসহ মোট ২১টি গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরাই এসব সহায়তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।

খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়েছে গো আপ ফাউন্ডেশন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতা এবং ইউনিসেফের দেওয়া হাইজিন কিট বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এসব কিটে ছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন, সাবান, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ। পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকারও দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ খান জানান, দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শত শত পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু ত্রাণ বিতরণেই নয়, খুব শিগগিরই একটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসন নিয়েও কাজ শুরু করবে সংগঠনটি। তিনি সহযোগিতার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে বহু মানুষ চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক জায়গায় পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবুও মানুষের কষ্ট লাঘবের প্রত্যয়ে তরুণদের দল নিরলসভাবে কাজ করেছে। তাদের বিশ্বাস, মানবিক সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বর্তমানেও বান্দরবানের কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। গো আপ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মানবিক কার্যক্রম চলবে। স্থানীয় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর

বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা

Update Time : ১০:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান বন্যা ত্রাণ কার্যক্রমে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংগঠন গো আপ ফাউন্ডেশন। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি ১০ দিনব্যাপী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে শত শত পরিবারের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির উপকরণ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পাহাড়ি গ্রামে প্রায় ৭৫৬টি পরিবার এই উদ্যোগের আওতায় আসে। তারাচা, ছ্যাংগা, বটতলী, গোয়েলাখোলা, ফজর আলী পাড়া, ব্রিগেড এলাকা, মুসলিম পাড়া, চড়ুই পাড়া, ভরাখালী ও লাঙ্গিপাড়াসহ মোট ২১টি গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরাই এসব সহায়তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন  বন্যার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিন মাস ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত

খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়েছে গো আপ ফাউন্ডেশন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতা এবং ইউনিসেফের দেওয়া হাইজিন কিট বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এসব কিটে ছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন, সাবান, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ। পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকারও দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

আরও পড়ুন  কক্সবাজার সৈকতে রহস্যজনকভাবে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে তদন্ত

গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ খান জানান, দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শত শত পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু ত্রাণ বিতরণেই নয়, খুব শিগগিরই একটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসন নিয়েও কাজ শুরু করবে সংগঠনটি। তিনি সহযোগিতার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে বহু মানুষ চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক জায়গায় পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবুও মানুষের কষ্ট লাঘবের প্রত্যয়ে তরুণদের দল নিরলসভাবে কাজ করেছে। তাদের বিশ্বাস, মানবিক সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন  স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বর্তমানেও বান্দরবানের কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। গো আপ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মানবিক কার্যক্রম চলবে। স্থানীয় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।