ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্ষোভ: ১৭ কোটির ভবন এখন জঙ্গলবাড়ি

চিকিৎসাসামগ্রী ও শয্যাহীন মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল।ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও পাঁচ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা তথ্য বাতায়ন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ভবনটি চিকিৎসকের অভাবে কার্যত অচল ও পরিত্যক্ত পড়ে আছে।

বর্তমানে মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো শয্যা, এক্স-রে বা ইসিজি মেশিনের মতো প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অস্তিত্ব দেখা যায়নি। দুটি বিশাল স্টাফ কোয়ার্টারসহ হাসপাতালের মূল চিকিৎসাকেন্দ্রটি এখন উপযুক্ত তদারকি ও ব্যবহারের অভাবে স্থানীয়দের কাছে কেবলই একটি জঙ্গলবাড়িতে পরিণত হয়েছে।

অনুমোদিত জনবলের তালিকায় চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের উল্লেখ থাকলেও মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর অধিকাংশ পদই বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে কোটি কোটি টাকার এই সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।

দুর্ভোগের শিকার স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে সামান্য চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বরিশাল সদর হাসপাতালে ছুটছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এলাকাবাসীর তীব্র দাবি, মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল টি যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৌমিত্র সিনহা জানান, মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর অর্থনৈতিক কোড এখনও চালু না হওয়ায় এবং তীব্র লোকবল সংকটে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র দুজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সের সহায়তায় অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কেবল প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে কিছু ওষুধ বিতরণ চলছে।

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর এই বেহাল দশা দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী মহল। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এই বিশাল স্বাস্থ্য অবকাঠামোটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং গ্রামীণ জনপদের হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্ষোভ: ১৭ কোটির ভবন এখন জঙ্গলবাড়ি

Update Time : ০৯:১৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও পাঁচ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা তথ্য বাতায়ন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ভবনটি চিকিৎসকের অভাবে কার্যত অচল ও পরিত্যক্ত পড়ে আছে।

বর্তমানে মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো শয্যা, এক্স-রে বা ইসিজি মেশিনের মতো প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অস্তিত্ব দেখা যায়নি। দুটি বিশাল স্টাফ কোয়ার্টারসহ হাসপাতালের মূল চিকিৎসাকেন্দ্রটি এখন উপযুক্ত তদারকি ও ব্যবহারের অভাবে স্থানীয়দের কাছে কেবলই একটি জঙ্গলবাড়িতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  এসএসসিতে ১২৭১ নম্বর পেয়ে প্রথম সাদমান, বার্তা সবার জন্য

অনুমোদিত জনবলের তালিকায় চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের উল্লেখ থাকলেও মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর অধিকাংশ পদই বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে কোটি কোটি টাকার এই সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।

দুর্ভোগের শিকার স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে সামান্য চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বরিশাল সদর হাসপাতালে ছুটছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এলাকাবাসীর তীব্র দাবি, মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল টি যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন  চরমোনাই পীরের কড়া বার্তা: ইসলামের নামে একাধিক দল নিয়ে প্রশ্ন

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৌমিত্র সিনহা জানান, মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর অর্থনৈতিক কোড এখনও চালু না হওয়ায় এবং তীব্র লোকবল সংকটে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র দুজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সের সহায়তায় অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কেবল প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে কিছু ওষুধ বিতরণ চলছে।

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল এর এই বেহাল দশা দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী মহল। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এই বিশাল স্বাস্থ্য অবকাঠামোটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং গ্রামীণ জনপদের হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন  ১৫ দেশ হারানোর ঝুঁকি ,চমকে দেওয়া বৈশ্বিক সংকেত ৫০ বছরে সম্ভাব্য পরিবর্তন