ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলো ফার্নেস অয়েলের দাম

পরিশোধিত ভারী জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত

ফার্নেস অয়েলের দাম ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ৪ টাকা ৪৪ পয়সা কমানোর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি এর বিশেষ কমিশন সভায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে এই ভারী জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজারমূল্য ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমে এখন প্রতি লিটার ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং শীর্ষস্থানীয় তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর যৌথ প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি ও বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই নতুন দামের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধিত মূল্যহার আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে সারা দেশে একযোগে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তা পুরোপুরি বহাল থাকবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত তেলের প্লাটস রেট, মে-জুন মাসের ক্রুড অয়েলের মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের সাম্প্রতিক পরিবর্তন বিবেচনা করে গঠিত বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই মূলত এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এই আদেশ অনুযায়ী এখন থেকে ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে বিপণন চার্জ ০.৭১ টাকা এবং সমন্বিত পরিবহন চার্জ ১.২০ টাকা হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা হবে।

এর আগে গত ১৮ মে এই তেলের দাম একলাফে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ করা হয়েছিল এবং তারও আগে ১২ এপ্রিল প্রতি লিটারে একবারে ২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ঘন, আঠালো ও গাঢ় কালো রঙের এই অবশিষ্টাংশ খনিজ তরল পদার্থটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘ফুয়েল অয়েল’ বা ‘বাঙ্কার ফুয়েল’ নামে পরিচিত, যা দেশের ভারী শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিভিন্ন বড় কারখানার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এই তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকরা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা দেশের সামষ্টিক শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্রাহক পর্যায়ে স্বস্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে এই মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদে বড় অবদান রাখবে। বিইআরসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জনগণের স্বার্থে এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় আগামীতেও এমন স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় প্রক্রিয়া নিয়মিত চালু রাখা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কমলো ফার্নেস অয়েলের দাম

Update Time : ১১:২৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ফার্নেস অয়েলের দাম ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ৪ টাকা ৪৪ পয়সা কমানোর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি এর বিশেষ কমিশন সভায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে এই ভারী জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজারমূল্য ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমে এখন প্রতি লিটার ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং শীর্ষস্থানীয় তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর যৌথ প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি ও বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই নতুন দামের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধিত মূল্যহার আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে সারা দেশে একযোগে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তা পুরোপুরি বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন  স্বস্তিদায়ক বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত তেলের প্লাটস রেট, মে-জুন মাসের ক্রুড অয়েলের মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের সাম্প্রতিক পরিবর্তন বিবেচনা করে গঠিত বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই মূলত এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এই আদেশ অনুযায়ী এখন থেকে ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে বিপণন চার্জ ০.৭১ টাকা এবং সমন্বিত পরিবহন চার্জ ১.২০ টাকা হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা হবে।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দাম ২০২৬: আবারও বেড়েছে সোনার দাম, আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে?

এর আগে গত ১৮ মে এই তেলের দাম একলাফে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ করা হয়েছিল এবং তারও আগে ১২ এপ্রিল প্রতি লিটারে একবারে ২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ঘন, আঠালো ও গাঢ় কালো রঙের এই অবশিষ্টাংশ খনিজ তরল পদার্থটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘ফুয়েল অয়েল’ বা ‘বাঙ্কার ফুয়েল’ নামে পরিচিত, যা দেশের ভারী শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিভিন্ন বড় কারখানার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এই তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকরা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা দেশের সামষ্টিক শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৯৯ টাকা , কখন কমবে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

গ্রাহক পর্যায়ে স্বস্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে এই মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদে বড় অবদান রাখবে। বিইআরসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জনগণের স্বার্থে এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় আগামীতেও এমন স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় প্রক্রিয়া নিয়মিত চালু রাখা হবে।