জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা বিতর্কিত নির্বাহী আদেশটি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। BBC News এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিরা ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে নিম্ন আদালতের আগের স্থগিতাদেশটি বহাল রাখায় এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিরাট ধাক্কা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আনার অংশ হিসেবে ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন বৈধ বা অবৈধ অভিবাসী মা-বাবার যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব না পায়। তবে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন সংবিধানের ঐতিহাসিক ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী এই ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুই বৈধ নাগরিক।
চলতি বছর এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় কোনো বড় পলিসির পরাজয়, যার আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর জারি করা ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক আইনটিও আদালত বাতিল করেছিলেন। রায়ে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পরবর্তী সময়ের উদাহরণ টেনে বলা হয়, রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের এই অধিকার কোনোভাবেই কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
অবশ্য এই ধাক্কার মাঝেই ট্রাম্পের জন্য একটি স্বস্তির খবর এসেছে, যেখানে গার্লস স্কুল ও কলেজের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন আদালত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আদালতের এই অংশটিকে তাঁর প্রশাসনের একটি ‘বড় জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে মার্কিন অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র ক্ষমতার সীমা আবারও আদালতের মাধ্যমে কঠোরভাবে নির্ধারিত হলো। নাগরিক অধিকার কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে আমেরিকার মৌলিক সংবিধানের জয় হিসেবে দেখছেন।
চূড়ান্তভাবে, মার্কিন বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে দিল যে রাজনৈতিক স্বার্থে সংবিধানের মূল চেতনা পরিবর্তন করা সহজ হবে না। ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান এই রায়ের ফলে আইনি মারপ্যাঁচে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ল।


















