আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে শান্তির আভাস মিলল। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। তেহরানও এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক ‘১০ দফা প্রস্তাব’, যা যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের ভিত্তি হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রায় সবকটিতেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
ইরানের সেই ১০ দফা প্রস্তাবে যা রয়েছে: যদিও এই প্রস্তাবের কোনো আনুষ্ঠানিক সংস্করণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে সম্ভাব্য ১০টি পয়েন্ট সামনে এসেছে:
১. যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আগ্রাসন না চালানোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা।
২. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেওয়া।
৪. ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৫. সব ধরনের গৌণ বা সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
৬. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আগের সব নেতিবাচক রেজুলেশন বাতিল করা।
৭. আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিচালনা পর্ষদের সব সিদ্ধান্ত বাতিল।
৮. যুদ্ধের কারণে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৯. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
১০. লেবানন ও হিজবুল্লাহসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
বিশ্বনেতারা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও ১০ দফা প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এখনও সংশয় রয়েছে।



























