বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শান্তিরক্ষীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চার হাজারের বেশি সদস্য বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বৃহৎ সদস্য প্রদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ১৯৪৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই শহিদ হয়েছেন ৫৯ জন শান্তিরক্ষী। এই আত্মত্যাগকে স্মরণ করতেই প্রতিবছর ২৯ মে পালিত হয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’, যা বিশ্বব্যাপী স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষীরা নিজেদের দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন। তারা শুধু সংঘাত কমাতেই কাজ করেন না, বরং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি, নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতেও ভূমিকা রাখেন। তার মতে, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও আশা ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর মাধ্যম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক দায়িত্ববোধের কারণেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বহুবার সাহসিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে জাতিসংঘের আস্থা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন মিশনে তাদের সফল কর্মকাণ্ড দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে।
জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। কারণ দায়িত্ব পালনের সময় তারা নিয়মিত নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। এজন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সেখানে শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে। পাশাপাশি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও দেওয়া হবে।
বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। দেশের হাজারো শান্তিরক্ষী নিজেদের জীবন বাজি রেখে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। তাদের এই অবদান শুধু বাংলাদেশের জন্য গর্বের নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও মানবতার জন্যও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।






















