২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, লাখো মানুষ জীবন হারানোর পাশাপাশি কোটি কোটি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দেশের অধিকাংশ এলাকায় সরকারি সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার নারী ও শিশুরা। হাজার হাজার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে এবং অনেকেই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদানের যুদ্ধ এখন আর শুধু স্থলভিত্তিক নয়। উভয় পক্ষই নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং হামলার জন্য ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে যুদ্ধের পরিধি শহর, গ্রাম, বাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সুদানের কৃষি, শিল্প, ব্যাংকিং, পরিবহন এবং বাণিজ্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, আরব লীগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংঘাতরত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে সুদানের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও শরণার্থী সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



























