ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পাকুন্দিয়ার যুবক নিহত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পাকুন্দিয়ার যুবক আলিফ নিহত

সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় আলিফ আহমেদ চন্দন (২৪) নামে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

নিহত আলিফ আহমেদ চন্দন পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মরুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে প্রায় সাত বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে দাম্মাম শহরের মিনিস্টার বলদিয়া কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে কাজ করে আলিফ নিয়মিত পরিবারের খরচে সহযোগিতা করতেন। প্রবাসে থেকে পরিবারের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার স্বপ্ন ছিল তার। প্রায় এক বছর আগে ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। ওই সময় বিয়েও করেন। পরে ছুটি শেষে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান।

বৃহস্পতিবার কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন আলিফ। পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে সৌদি আরব থেকে আলিফের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছায়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন।

আলিফের বাবা আব্দুল হাই ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, অনেক আশা-ভরসা নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। ছেলে পরিবারের হাল ধরবে এবং ভবিষ্যতে পরিবারের দায়িত্ব নেবে—এমন স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আলিফ পরিবারের আর্থিক সহযোগিতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। দেশে ছুটিতে এসে বিয়ে করার পর ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলো। তার অকাল মৃত্যুতে নববিবাহিত স্ত্রী, বাবা-মা, স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় ঝুঁকি। কর্মস্থলে যাতায়াত কিংবা ব্যক্তিগত কাজে রাস্তায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। আলিফের মৃত্যুও পরিবারটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘসময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদীর শুভেচ্ছা, বার্তায় যা লিখেছেন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় পাকুন্দিয়ার যুবক নিহত

Update Time : ০৯:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় আলিফ আহমেদ চন্দন (২৪) নামে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

নিহত আলিফ আহমেদ চন্দন পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মরুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে প্রায় সাত বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে দাম্মাম শহরের মিনিস্টার বলদিয়া কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে কাজ করে আলিফ নিয়মিত পরিবারের খরচে সহযোগিতা করতেন। প্রবাসে থেকে পরিবারের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার স্বপ্ন ছিল তার। প্রায় এক বছর আগে ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। ওই সময় বিয়েও করেন। পরে ছুটি শেষে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান।

আরও পড়ুন  নদী দখলদার ২১ হাজার ৯৮৮ জন: দেশে ১,৪১৫ নদীর তথ্য প্রকাশ

বৃহস্পতিবার কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন আলিফ। পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে সৌদি আরব থেকে আলিফের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছায়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন।

আরও পড়ুন  নুসরাত তাবাসসুম শপথ গ্রহণ | সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে শপথ

আলিফের বাবা আব্দুল হাই ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, অনেক আশা-ভরসা নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। ছেলে পরিবারের হাল ধরবে এবং ভবিষ্যতে পরিবারের দায়িত্ব নেবে—এমন স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আলিফ পরিবারের আর্থিক সহযোগিতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। দেশে ছুটিতে এসে বিয়ে করার পর ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলো। তার অকাল মৃত্যুতে নববিবাহিত স্ত্রী, বাবা-মা, স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন  বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রী

প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় ঝুঁকি। কর্মস্থলে যাতায়াত কিংবা ব্যক্তিগত কাজে রাস্তায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। আলিফের মৃত্যুও পরিবারটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।