চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমাদের মধ্যে কোনো সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।
শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, আগামী দিনগুলোতেও যেন এ বছরের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবে—এটাই বাংলাদেশের ঐতিহ্য। কোনো ধর্মের মানুষকে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজন না করে সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এমপি মানিক আরও বলেন, সারা দেশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হচ্ছে। সবাই যার যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবে এবং অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, যেভাবে সবাই একসঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন, একইভাবে দেশের অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানেও ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এই সম্প্রীতি ধরে রাখতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর অংশ নেন। ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে অংশগ্রহণ করেন।
জন্মাষ্টমী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করা হয়।
জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী এবং প্রচার সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশ।
এ ছাড়া চাঁদপুর জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরেশ চন্দ্র মালাকার, সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সরকার, কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের কথা। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়।
শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের বক্তব্যেও এই সম্প্রীতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁর ভাষায়, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের জায়গায় সবাই বাংলাদেশি। তাই বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।
জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উদযাপন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তাও তুলে ধরা হয়।



























