ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার

আবদুস সালাম তালুকদার ও বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও প্রয়াত জাতীয় নেতা ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোদ্ধা। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। জামালপুর সমিতি, ঢাকার উদ্যোগে ‘সালাম তালুকদার : নেতা ও মানুষ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবদুস সালাম তালুকদার বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় ঐক্যজোটের লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে বিএনপির প্রকাশিত স্মরণবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করলে দলের কঠিন সময়ে আবদুস সালাম তালুকদার তাঁর আস্থাভাজন নেতাদের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও আবদুস সালাম তালুকদার দলীয় দায়িত্ব পালনে দৃঢ় ছিলেন। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, আবদুস সালাম তালুকদার ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

বিএনপির প্রকাশিত স্মরণবার্তায় তাঁকে স্পষ্টবাদী, ঋজু, দায়িত্বশীল ও মার্জিত রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বৈরশাসনের অবসানের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদানও সেখানে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই; কিন্তু নীতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন এমন একজন বিরল রাজনীতিক, যিনি ক্ষমতার মধ্যে থেকেও বিনয়ী থাকতে জানতেন। দলকে সুসংগঠিত রাখার জন্য তিনি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন। নব্বইয়ের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি সৌজন্যবোধ আজকের রাজনীতিতে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

মান্নার মতে, দেশ পরিচালনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যোগ্যতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আবদুস সালাম তালুকদারের মতো রাজনীতিকদের কাছ থেকে বর্তমান প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, আবদুস সালাম তালুকদার শুধু জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের একজন অভিভাবক ছিলেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আবদুস সালাম তালুকদার তাঁর কাছে বটবৃক্ষের মতো ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে দেশপ্রেম, রাজনীতি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার শিক্ষা পেয়েছেন। ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা যায়, সেটিও সালাম তালুকদার দেখিয়ে গেছেন।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন তাঁর বক্তব্যে আবদুস সালাম তালুকদারের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রভাবের কথাও স্মরণ করেন।

তিনি জানান, চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পথচলা এবং অর্থবিত্তের পেছনে না ছুটে ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পেছনে চাচা আবদুস সালাম তালুকদারের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা ছিল। ঢাকা ও দিনাজপুরে অলাভজনক সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগেও তাঁর অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করেন তিনি।

আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন একই সঙ্গে আইনজীবী ও রাজনীতিক। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আইন ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯১ সালে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

বক্তারা মনে করেন, আবদুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শুধু তাঁর দলীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সৌজন্য, সততা ও জনসম্পৃক্ততার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, সেটিই তাঁর বড় পরিচয়।

বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রকাশিত স্মরণবার্তায় গণআন্দোলনে তাঁর ভূমিকা, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট আবদুস সালাম তালুকদার মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এবারের আলোচনা সভায় বক্তারা তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানবিক গুণাবলি এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জামালপুর সমিতি, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম।

প্রধান আলোচক ছিলেন জামালপুর সমিতির মহাসচিব ও ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

এ ছাড়া সভায় সমিতির সহসভাপতি আফজাল খান, সাবেক মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ।

আলোচনা শেষে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীর এই স্মরণসভায় বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক সততা, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবিকতার বিষয়টি। তাঁদের মতে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা এবং নব্বইয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘসময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদীর শুভেচ্ছা, বার্তায় যা লিখেছেন

খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার

Update Time : ০৯:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও প্রয়াত জাতীয় নেতা ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোদ্ধা। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। জামালপুর সমিতি, ঢাকার উদ্যোগে ‘সালাম তালুকদার : নেতা ও মানুষ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবদুস সালাম তালুকদার বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় ঐক্যজোটের লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে বিএনপির প্রকাশিত স্মরণবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন আবদুস সালাম তালুকদার। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করলে দলের কঠিন সময়ে আবদুস সালাম তালুকদার তাঁর আস্থাভাজন নেতাদের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও আবদুস সালাম তালুকদার দলীয় দায়িত্ব পালনে দৃঢ় ছিলেন। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত বিচারে নতুন নজির

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, আবদুস সালাম তালুকদার ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

বিএনপির প্রকাশিত স্মরণবার্তায় তাঁকে স্পষ্টবাদী, ঋজু, দায়িত্বশীল ও মার্জিত রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বৈরশাসনের অবসানের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদানও সেখানে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই; কিন্তু নীতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন এমন একজন বিরল রাজনীতিক, যিনি ক্ষমতার মধ্যে থেকেও বিনয়ী থাকতে জানতেন। দলকে সুসংগঠিত রাখার জন্য তিনি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন। নব্বইয়ের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি সৌজন্যবোধ আজকের রাজনীতিতে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

মান্নার মতে, দেশ পরিচালনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যোগ্যতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আবদুস সালাম তালুকদারের মতো রাজনীতিকদের কাছ থেকে বর্তমান প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, আবদুস সালাম তালুকদার শুধু জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের একজন অভিভাবক ছিলেন।

আরও পড়ুন  এসএসসি ফল প্রকাশ, জিপিএ–৫ পেল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আবদুস সালাম তালুকদার তাঁর কাছে বটবৃক্ষের মতো ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে দেশপ্রেম, রাজনীতি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার শিক্ষা পেয়েছেন। ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা যায়, সেটিও সালাম তালুকদার দেখিয়ে গেছেন।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন তাঁর বক্তব্যে আবদুস সালাম তালুকদারের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রভাবের কথাও স্মরণ করেন।

তিনি জানান, চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পথচলা এবং অর্থবিত্তের পেছনে না ছুটে ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পেছনে চাচা আবদুস সালাম তালুকদারের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা ছিল। ঢাকা ও দিনাজপুরে অলাভজনক সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগেও তাঁর অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করেন তিনি।

আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন একই সঙ্গে আইনজীবী ও রাজনীতিক। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আইন ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯১ সালে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

বক্তারা মনে করেন, আবদুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শুধু তাঁর দলীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সৌজন্য, সততা ও জনসম্পৃক্ততার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, সেটিই তাঁর বড় পরিচয়।

আরও পড়ুন  শত শত কোটি টাকার টোল চুরি, রেগনাম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রকাশিত স্মরণবার্তায় গণআন্দোলনে তাঁর ভূমিকা, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট আবদুস সালাম তালুকদার মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এবারের আলোচনা সভায় বক্তারা তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানবিক গুণাবলি এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জামালপুর সমিতি, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম।

প্রধান আলোচক ছিলেন জামালপুর সমিতির মহাসচিব ও ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

এ ছাড়া সভায় সমিতির সহসভাপতি আফজাল খান, সাবেক মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ।

আলোচনা শেষে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীর এই স্মরণসভায় বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক সততা, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবিকতার বিষয়টি। তাঁদের মতে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা এবং নব্বইয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।