ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হুতি কমান্ডার নিহত

ইয়েমেনের তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারপন্থী বাহিনী ও হুতিদের সংঘর্ষের প্রতীকী ছবি।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, পশ্চিম ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় সংঘর্ষের সময় মোহাম্মদ হারিথ আলি মুতলাক আল-আলাউই নিহত হন। তবে তার মৃত্যুর নির্দিষ্ট স্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সাবা টিভির প্রতিবেদনে আল-আলাউইয়ের নিহত হওয়ার তথ্য জানানো হলেও হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার মৃত্যুর বিষয়ে হুতিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

আল-আলাউই নিহত হওয়ার এক দিন আগে সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস আরেক হুতি কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের পশ্চিমে আল-কাধা এলাকায় কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজির ও তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হন।

স্থানীয় প্রতিবেদনে কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজিরকে ‘আবু আলি আল-মাদানি’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। আল-কাধা এলাকায় সংঘর্ষের সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনও নিহত হয়েছেন বলে সরকারপন্থী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

বৃহস্পতিবার তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারপন্থী বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে ব্যাপক সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অঞ্চলটিতে এটি উল্লেখযোগ্য সংঘর্ষগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তাইজে সংঘর্ষের সময় সরকারপন্থী বাহিনী হুতিদের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। আল-বারহ এলাকায় সামরিক অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসা ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

কিছু স্থানীয় প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন হুতি কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অতিরিক্ত দাবির বিষয়ে সব পক্ষের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে মোহাম্মদ হারিথ আলি মুতলাক আল-আলাউই ও কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজিরের মৃত্যুর বিষয়টিই উল্লেখ করা হচ্ছে।

ইয়েমেনে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে তাইজের এই লড়াই সামনে এসেছে। জাতিসংঘও দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত ফিরে আসার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের পর ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতি গোষ্ঠী রাজধানী সানা এবং ইয়েমেনের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার এবং তাদের মিত্র বাহিনী দেশের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

তাইজ দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ সরকারপন্থী বাহিনী ও হুতিদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে নতুন করে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়লে দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনা তাইজ ও পশ্চিম ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা আবারও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হুতি কমান্ডার নিহত

Update Time : ০৮:২২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, পশ্চিম ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় সংঘর্ষের সময় মোহাম্মদ হারিথ আলি মুতলাক আল-আলাউই নিহত হন। তবে তার মৃত্যুর নির্দিষ্ট স্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সাবা টিভির প্রতিবেদনে আল-আলাউইয়ের নিহত হওয়ার তথ্য জানানো হলেও হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার মৃত্যুর বিষয়ে হুতিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

আল-আলাউই নিহত হওয়ার এক দিন আগে সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস আরেক হুতি কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের পশ্চিমে আল-কাধা এলাকায় কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজির ও তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হন।

আরও পড়ুন  ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত ১৬৪, ১০ হাজার প্রাণহানির আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা

স্থানীয় প্রতিবেদনে কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজিরকে ‘আবু আলি আল-মাদানি’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। আল-কাধা এলাকায় সংঘর্ষের সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনও নিহত হয়েছেন বলে সরকারপন্থী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

বৃহস্পতিবার তাইজের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারপন্থী বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে ব্যাপক সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অঞ্চলটিতে এটি উল্লেখযোগ্য সংঘর্ষগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তাইজে সংঘর্ষের সময় সরকারপন্থী বাহিনী হুতিদের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। আল-বারহ এলাকায় সামরিক অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসা ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়, পেরুর প্রেসিডেন্ট হলেন কেইকো ফুজিমোরি

কিছু স্থানীয় প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন হুতি কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অতিরিক্ত দাবির বিষয়ে সব পক্ষের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে মোহাম্মদ হারিথ আলি মুতলাক আল-আলাউই ও কামেল খলিল নাসের আল-ওয়াজিরের মৃত্যুর বিষয়টিই উল্লেখ করা হচ্ছে।

ইয়েমেনে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে তাইজের এই লড়াই সামনে এসেছে। জাতিসংঘও দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত ফিরে আসার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের পর ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতি গোষ্ঠী রাজধানী সানা এবং ইয়েমেনের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার এবং তাদের মিত্র বাহিনী দেশের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও পড়ুন  ২৫০ বছরে কেন এত বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্প কি মূল কারণ?

তাইজ দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ সরকারপন্থী বাহিনী ও হুতিদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে নতুন করে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়লে দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনা তাইজ ও পশ্চিম ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা আবারও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।